kalerkantho

সোমবার । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৮ ফাল্গুন ১৪২৩। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি

বিশ্বব্যাংক নিয়ে সরকারের বক্তব্য অশনিসংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিশ্বব্যাংক নিয়ে সরকারের বক্তব্য অশনিসংকেত

পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে সরে আসা বিশ্বব্যাংকের ঢাকার সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের কার্যক্রম তদন্ত এবং তাঁদের গাড়ি তলবের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক সম্পর্কে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী থেকে শুরু করে দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতারা যেভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন তা আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অশনিসংকেত। এটা দেশের জন্য শুভ নয়। এতে দেশ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কানাডার আদালতের রায়ের পর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ সরকারের নির্দেশেই এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) ও দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) বাংলাদেশে অফিসে কাজ করা বিশ্বব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখে তাঁদের দুর্নীতির তদন্ত শুরু করছে। ইতিমধ্যে এনবিআর বিশ্বব্যাংকের ১৬টি গাড়ি তলব করেছে। অথচ ঢাকা অফিসে এত কিছুর পরও পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে বিশ্বব্যাংক তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

রিজভী বলেন, বিশ্বব্যাংক সবচেয়ে কম সুদে দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে ঋণ দেয়। বিশ্বব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থায়নে দেশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো ও দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন খাতে শতাধিক প্রকল্প চলমান। কানাডার আদালতের রায়ের পর বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতাদের লম্ফঝম্ফ ও দাম্ভিকতা সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটির সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি ঘটাতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এতে করে দেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নে সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন যে খালেদা জিয়ার জন্য নির্বাচন ও সংবিধান বসে থাকবে না। আমি তাঁকে বলতে চাই, তাঁর এ ধরনের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীকে সুখের ইন্ধন দিতে পারে। তবে জনগণের মধ্যে এটা বড় ধরনের শঙ্কা সৃষ্টি করছে। তাঁর বক্তব্যে যে ষড়যন্ত্র ও অশুভ পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত আছে, তা বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এ বক্তব্য দখলের প্রতিধ্বনি। আমরা দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই, খালেদা জিয়া ও তাঁর দলকে বাদ দিয়ে দেশে কোনো নির্বাচন হতে পারবে না। সংবিধানের দোহাই দিয়ে একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন করার যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ রুখে দেবে। ’

পাবনার সুজানগরে আগামী ৬ মার্চ অনুষ্ঠেয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজারি জাকির হোসেনের বাড়িতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘গত রাতে (বৃহস্পতিবার) চারটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে এসে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাজারি জাকির হোসেনের বাসায় হামলা চালায়। তাঁকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার জন্য এ হামলা। এটা হচ্ছে নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্বে নির্বাচন শুরু হওয়ার নতুন দৃষ্টান্ত। আমরা এহেন ঘটনার নিন্দা এবং অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। ’ এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে মো. শাহজাদা মিয়া, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘নির্বাচনী বহুমুখী প্রকল্প’ নিয়েছে সরকার : আমীর খসরু

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকার জনগণকে বাইরে রেখে ‘নির্বাচনী বহুমুখী প্রকল্প’ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য গতকাল এক আলোচনা সভায় বলেন, সরকারের বহুমুখী প্রকল্পে অন্যতম উদ্দেশ্য হলো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নির্বাচনের বাইরে রাখা। পাশাপাশি দলীয় নির্বাচন কমিশন গঠন ও দলীয় সরকারের অধীনে দলীয় লোকজন দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করা। পুলিশ-র‌্যাব ও তাদের নিজস্ব বাহিনী এবং সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দলীয় লোকজন বসিয়ে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণে রাখা। এ প্রকল্পে আরো রয়েছে—বিএনপির জনপ্রিয় অন্য নেতাদের কোণঠাসা করে রাখা, যাতে তারা নির্বাচনে আসতে না পারে; দলের সক্রিয় নেতাকর্মীদের গুম-হত্যা ও মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠিয়ে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা। তবে সরকারের এহেন প্রকল্প সফল হবে না।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিলের উদ্যোগে ‘নতুন নির্বাচন কমিশন ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম এ হালিমের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে আহমেদ আজম খান, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ইসমাইল হোসেন তালুকদার খোকন, এস আলম মামুন, মঞ্জুর হোসেন ঈসা, কাজী মুনিরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য