kalerkantho


কারাগারে বসেও শশিকলারই জয়

পালানিস্বামী মুখ্যমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পালানিস্বামী মুখ্যমন্ত্রী

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শশিকলা নটরাজনের অনুগত ই কে পালানিস্বামীকেই সরকার গড়ার আহ্বান জানালেন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজ্যপাল সি বিদ্যাসাগর রাও। পালানিস্বামীকে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের ১৫ দিন সময়ও দিয়েছেন তিনি। একান্ত অনুগত পালানিস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ডাক পাওয়ায় রাজ্যের কুরসি দখলের লড়াইয়ে পন্নিরসেলভমের শিবিরকে আপাতত অনেকটাই পিছিয়ে দিলেন শশিকলা। রাজ্যপালের এ সিদ্ধান্তে স্বভাবতই উল্লসিত শশিকলার শিবির। গতকাল স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেন পালানিস্বামী।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশে শশিকলার জেলযাত্রার পর সরকার গড়তে কাকে ডাকা হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছিলেন রাজ্যপাল। কুরসি দখলে যুযুধান দুই পক্ষই বারবার দেখা করেছে রাজ্যপালের সঙ্গে। পন্নিরসেলভম ও পালানিস্বামী—দুই শিবিরই দাবি করেছে নিজেদের হাতে যথেষ্টসংখ্যক বিধায়কের সমর্থন থাকার। এ ক্ষেত্রে রাজ্যপাল কাকে আগে ডাকবেন তা নিয়ে চলছিল বিস্তর জল্পনা। এ ক্ষেত্রে চার রকম সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন রাজ্যপাল। এক. অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগির পরামর্শ মেনে বিধানসভায় দুই শিবিরের নেতাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দিতে পারতেন তিনি।

প্রথম থেকেই কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে চলায় এ সম্ভাবনাই প্রবল বলে আশা করছিল রাজনৈতিক মহল। দুই. পালানিস্বামী বা পন্নিরসেলভমের মধ্যে কোনো একজনকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী হতে বলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁকে বিধানসভায় গরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারতেন তিনি। এ সম্ভাবনাই এদিন বেছে নিয়েছেন বিদ্যাসাগর রাও। ডেকে নিয়েছেন পালানিস্বামীকে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে সময় দিয়েছেন ১৫ দিন। তিন. শাসক দলে মতানৈক্যের কারণে প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে-কে সরকার গড়তে সুযোগ দিতে পারতেন রাজ্যপাল। চার. বিধানসভা জিইয়ে রেখে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারিও করতে পারতেন তিনি। তবে শেষ দুই সম্ভাবনার একটি করলে নিঃসন্দেহে আঙুল উঠত কেন্দ্রের দিকে। কেন্দ্রের তরফে কিন্তু প্রথম থেকেই একে রাজ্যের নিজস্ব সমস্যা বলে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেন পালানিস্বামী। এরপর চার দফায় তাঁর মন্ত্রিসভার ৩০ জন সদস্য শপথ নেন। এ নিয়ে গত ১০ মাসে তৃতীয়বার এআইএডিএমকে দল মন্ত্রিসভা গঠন করল।

শশিকলার জেলযাত্রার পর ৬৩ বছরের ই পালানিস্বামীই ছিলেন তাঁর শিবিরের সবচেয়ে বিশ্বস্ত। বুধবারই তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে ১২৪ জন বিধায়কের সমর্থন থাকার দাবি করেন। তাঁকে সরকার গড়তে ডাকার পর শশিকলার শিবির থেকে টুইট করা হয়, ‘রাজ্যপালকে ধন্যবাদ আমাদের নেতাকে সরকার গড়তে ডাকার জন্য। এটা নিঃসন্দেহে আম্মার জয়। ’ পন্নিরসেলভম শিবিরের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

অন্যদিকে এআইএডিএমকের দলীয় কোন্দলকে নিজেদের শক্তি হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টায় উদ্যত তামিলনাড়ুর প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। দলের এক বিধায়ক এলানগোভান প্রশ্ন করেন, ‘কেন মুখ্যমন্ত্রীকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হলো?’ বিধায়কের আরো দাবি আসলে রাজ্যপাল নিজের রাজ্য রাজনীতির অবস্থা নিয়ে বিশেষ আশ্বস্ত নন। সূত্র : আনন্দবাজার, টাইমস অব ইন্ডিয়া।


মন্তব্য