kalerkantho


বরিশালে উচ্ছেদ অভিযানে বাধা সংঘর্ষ, গুলিতে আহত ২৫

বরিশাল অফিস   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বরিশালে উচ্ছেদ অভিযানে বাধা সংঘর্ষ, গুলিতে আহত ২৫

বরিশাল নগরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের রক্ষায় পুলিশ লাঠিপেটা করার পাশাপাশি শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। একপর্যায়ে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে।

বিসিসির সড়ক পরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় রাস্তার দুই পাশের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমতিয়াজ মাহামুদ জুয়েলের নেতৃত্বে দু-একটি স্থাপনা ভাঙতেই হামলা শুরু হয়। স্থানীয় লোকজন মারপিট শুরু করলে পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও হামলাকারীরা না থামলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ লাঠিপেটা করে ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এ ঘটনায় সিটি করপোরেশনের নিরাপত্তা সুপার নিকর চন্দ্র দাস, আরআই সাজ্জাদ, সোহেল খান, ইমরান হোসেনসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। তাদের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে পায়ে রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়ে চিকিত্সাধীন মাইনুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশন থেকে বরাদ্দ নিয়েই বসবাস। এ জন্য সবাই মিলে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন সড়ক পরিদর্শক ফের টাকা দাবি করছেন। তা দিতে রাজি না হওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান। ঘটনা জানিয়ে উচ্ছেদ বন্ধ করতে বলা হলে পুলিশ ও বিসিসি কর্মচারীরা হামলা শুরু করেন। এতে শাহীন,  শাহাদাত, মিঠুন, মিজানসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমতিয়াজ মাহামুদ জুয়েল জানান, দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশেনের জমি স্থানীয় কিছু লোক অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। তাদের উচ্ছেদ করতে গেলে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হলে অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। তবে বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান জানান, কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় বেশ কিছু জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। এতে সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত রয়েছেন। এ জমি উদ্ধারেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. হাবিবুর রহমান জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গিয়ে হামলা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ গুলি ছুড়েছে। আর্মড পুলিশ ৭৯ রাউন্ড, কাউনিয়া থানা পুলিশ ১৩ রাউন্ড এবং পুলিশ লাইনসের সদস্যরা ৫১ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচজন আহত হয়েছেন।


মন্তব্য