kalerkantho


পল্লবীতে ভুয়া চিকিৎসকের হাতে স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পল্লবীতে ভুয়া চিকিৎসকের হাতে স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু

রাজধানীর পল্লবীতে একটি ক্লিনিকে রোগীকে অচেতন করতে গিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে। গত মঙ্গলবার রাতে রিজার হাসপাতাল নামের ক্লিনিকটিতে চিকিৎসাধীন স্কুল ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের (১৬) মৃত্যু ঘটে। এ বিষয়ে মামলা হলে পুলিশ অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। সনদ ছাড়াই ফারুক হোসেন ওই ক্লিনিকে অতিথি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির জানান, ফারুক হোসেন ওই ছাত্রীর অপারেশন করছিলেন। তিনি নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিলেও কোনো চিকিৎসা সনদ নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে কল পেয়ে ছাত্রীর অপারেশন করতে আসেন। তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে।

স্কুল ছাত্রীর চাচা হারুন-অর-রশিদ জানান, পল্লবীর বি-ব্লকের কালাপানি বেগুনটিলা এলাকায় জান্নাতুলের পরিবার সদস্যদের বসবাস। সে স্থানীয় নাহার একাডেমির নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

তার বাবার নাম জয়নাল শেখ। গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের নিশ্চিন্তপুরে। সাত বছর আগে জান্নাতুলের বাম হাত ভেঙে গেলে মিরপুর-১২ নম্বরে অবস্থিত রিজার হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। এতে হাত বাঁকা হয়ে গেলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বড় হলে অপারেশন করাতে। সে মোতাবেক চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে মঙ্গলবার সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে তাকে নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। ঘণ্টা দুয়েক পর চিকিৎসকরা জানান, জান্নাতুলের অবস্থা খারাপ, আইসিইউতে নিতে হবে। সে জন্য দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে লাশ মর্গে পাঠান। এরপর ময়নাতদন্ত ছাড়াই বাসায় নেওয়া হয় লাশ। পরে ঘটনা থানায় জানালে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফের ঢামেক মর্গে পাঠায়। বাবা জয়নাল শেখের অভিযোগ, অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে মেয়েকে অচেতন করতে যে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, ওই ইনজেকশনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার আর চেতনা ফেরেনি। এটা রীতিমতো হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।


মন্তব্য