kalerkantho

‘মিনি তাজমহল’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘মিনি তাজমহল’

স্ত্রী মমতাজের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে তাজমহল তৈরি করে চিরপ্রসিদ্ধ হয়ে আছেন শাহজাহান। সম্রাট বলেই কি তিনি এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছিলেন? তাজমহল তৈরি নিয়ে ইতিহাসের পাতায় প্রজা শোষণের সাক্ষ্য রয়েছে। থাক সেসব, পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষের প্রেম-ভালোবাসার মহল রয়েছে তার নিজের ভেতরেই। ‘তবু মনে রেখ’—প্রেমের এই আকুতি যেন নিরন্তর আক্ষেপের মতো।  

ভারতের উত্তর প্রদেশের বুলন্দ শহরের বাসিন্দা ফইজুল হাসান কাদরি। বয়স ৭৭। তাঁর স্ত্রী তাজাম্মুলি বেগম পরলোকে চলে গেছেন। ফইজুল দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না। তিনি ছিলেন পোস্টমাস্টার। মৃত্যুর সময় স্ত্রী তাঁকে বলেন, ‘আমাদের নাম বহন করার মতো কেউ নেই, নেই কোনো স্মৃতি। ’

ব্যস।

সেদিন থেকে ফইজুল ঠিক করেন তিনিও একটি তাজমহল বানাবেন। কিন্তু তিনি তো আর সম্রাট নন। নেই প্রজা-খাজনা-টাকা। তাহলে? কোনো সমস্যা নেই। ভালোবাসার শক্তির বিনাশ নেই। তিল তিল করে জমানো টাকা দিয়ে তিনি তৈরি করেন ভালোবাসার সৌধ। পেনশনের কিছু টাকাও এর পেছনে ঢেলে দিয়েছিলেন। প্রথমে ছয় লাখ টাকা দিয়ে জমি কেনেন ফইজুল কাদরি। সেই জমিতে তিন লাখ টাকা দিয়ে তৈরি করেন মিনি তাজমহল। এখন বছরে প্রায় এক লাখ টাকার কাছাকাছি খরচ করেন ভালোবাসার স্মৃতিসৌধের রক্ষণাবেক্ষণে।

ফইজুল কাদরি ২০১২ সাল  থেকে নিজের হাতেই গড়ছেন এই মিনি তাজমহল। প্রতিদিন আট ঘণ্টার কাছাকাছি কাজ করেন তিনি। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে এসবই তিনি সম্ভব করেছেন কেবল ভালোবাসার জন্য। বেঁচে থাকতে থাকতে তিনি এই তাজমহলের সম্পূর্ণ রূপটি দেখে যেতে চান। আপাতত সিমেন্ট-বালু দিয়েই গাঁথা হচ্ছে এই মহল। ফইজুলের আশা, ভবিষ্যতে আরো আধুনিক করে ফেলবেন তাঁর সাধের তাজমহলকে। বুলন্দ শহরের লোকজন যাকে বলে ‘মিনি তাজমহল’। সূত্র : আনন্দবাজার।


মন্তব্য