kalerkantho


পৃথক পাঁচটি অভিযোগ

জাবিতে ১২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ১১ জনই ছাত্রলীগ নেতাকর্মী

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



জাবিতে ১২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ১১ জনই ছাত্রলীগ নেতাকর্মী

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ও মারামারিসহ পৃথক পাঁচটি অভিযোগে ১২ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১১ জনই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

এসব ঘটনার অধিকতর তদন্তে পৃথক দুটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক গতকাল বুধবার জানান, গত ৩০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সিন্ডিকেটের এক সভায় পৃথক পাঁচটি অভিযোগের ভিত্তিতে ১২ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শৃঙ্খলা বিধির ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বহিষ্কৃত থাকাকালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান এবং ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমে জালিয়াতচক্রের অভিনব কৌশল ও চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠে ‘সাড়ে চার লাখে জাবিতে ভর্তি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে প্রাথমিক তদন্তে নেমে জালিয়াতির ঘটনায় ছাত্রলীগের ওই দুজনের সংশ্লিষ্টতা পায়। পরে তাঁদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। তাঁরা হলেন আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের গত কমিটির দপ্তর সম্পাদক, এস এম শরীফ আহমেদ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগকর্মী নাজমুল হুদা।

জালিয়াতির ওই ঘটনা অধিকতর তদন্তে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেনকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ১০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দ্বীন মুক্তমঞ্চ, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও বটতলায় মওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিভ বিভাগের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় ১০ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বহিষ্কৃতরা হলেন—অর্থনীতি বিভাগের সাইদুল, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মিজানুর রহমান, দর্শন বিভাগের জাহিদ হাসান শিহাব, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ইয়াছিন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ইসতিয়াক আহমেদ চৌধুরী, গণিত বিভাগের নাজমুল হুদা ও দীব্যেন্দু বিশ্বাস দ্বীপ, অর্থনীতি বিভাগের জহুরুল হক, এস এম ইনামুজ্জামান শুভ ও আশিকুর রহমান। তাঁদের মধ্যে নাজমুল হুদা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায়ও আলাদাভাবে সাময়িক বহিষ্কৃত হয়েছেন। বহিষ্কৃত সবাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগকর্মী।

এ ছাড়া পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের জন্য চিরতরে বহিষ্কার করা হয়েছে নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলামকে।

পাশাপাশি ঘটনার অধিকতর তদন্তে বেগম সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ এস এম বদিয়ার রহমানকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল এ ব্যাপারে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিভিন্ন ঘটনায় কয়েকজনকে বহিষ্কারের কথা শুনেছি। তবে অফিসিয়াল নোটিশ পাইনি। বহিষ্কৃতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কেউ থেকে থাকলে তাদের বিষয়ে আমরা পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেব। ’


মন্তব্য