kalerkantho


প্রশ্নপত্র ফাঁস

আবারও সেই জয়, নীলয় নজরদারিতে অনেকেই

এস এম আজাদ   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আবারও সেই জয়, নীলয় নজরদারিতে অনেকেই

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ কয়েকটি গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। প্রশ্ন বিক্রি করতে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এ মাধ্যম। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পেতে শিক্ষার্থীরাও তৈরি করছে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের একাধিক গ্রুপ। যেসব ফেসবুক আইডি বা পেজ থেকে আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, সেসব নামে নতুন আইডি খুলছে চক্রগুলো। গত বছর ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা আইডি ‘আহমেদ নীলয়’ ও ‘আদনান আহমেদ জয়’ ফের চালু করা হয়েছে। নীলয় আইডি ব্যবহারকারী জাহিদ হাসান রকি নামের ওই তরুণকে নজরদারিতে নেওয়া হয়েছে। জয় আইডির তরুণকেও শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। বেশ কয়েকটি গ্রুপকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মিলেছে নতুন কিছু তথ্য। এ চক্রের হোতা ফয়সালুর রহমান ওরফে আকাশ।

প্রশ্ন ফাঁস ও বেচাকেনার সঙ্গে আরো কয়েকজন জড়িত। এসব চক্রের সঙ্গে বিজি প্রেসের কর্মীসহ বেশ কয়েকজন জড়িত বলে তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস করতে ফেসবুকে বেশ কয়েকটি গ্রুপ করা হয়েছে। এসব প্রশ্ন পেতে শিক্ষার্থীদের শত শত গ্রুপ আছে। ফলে দ্রুত তারা সফল হচ্ছে। কয়েকটি গ্রুপের ব্যাপারে তথ্য মিলেছে। তাদের হোতাদের ধরতে চেষ্টা চলছে। ’

ডিবি সূত্র জানায়, ফেসবুক গ্রুপ বা মেসেঞ্জারে চ্যাট গ্রুপ তৈরি করে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। গ্রুপের অ্যাডমিনের সঙ্গে আগ্রহীরা প্রথমে যোগাযোগ করে। তারপর নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার আগে ওই ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় প্রশ্ন। তাদের কাছ থেকে শতভাগ প্রশ্ন ‘কমন’ পড়ার নিশ্চয়তা পেয়ে ৫০০ থেকে তিন হাজার, কখনো তারও বেশি টাকা দিয়ে প্রশ্ন কিনে নেয় আগ্রহীরা। রাজধানীতে সক্রিয় এ রকম অর্ধশত তরুণের একটি তালিকা করেছে ডিবি। তারা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অ্যাপসে যোগাযোগ করে। এমন একজন অ্যাডমিন অর্ণব আহমেদ আহনাব। তার প্রকৃত নাম রাজু আহমেদ। অর্ণব আহমেদ আহনাব নামে সে ফেসবুক পেজ খুলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগাম দেওয়ার বিষয়ে স্ট্যাটাস দেয়।

সূত্র জানায়, গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় নীলয় আহমেদ নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিল ইকরাম হোসেন নামে এক তরুণ। নিজেকে বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা দাবি করলেও ইকরাম মূলত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। হৃদয় হোসেন নামে আরেক অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী আদনান আহমেদ জয় নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে প্রশ্ন ফাঁস করে। ওরা মূলত বিজি প্রেসের এক কর্মচারী ও এক শিক্ষকের সহায়তায় পরীক্ষার আগেই ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। গত বছরের ৮ জুন ইকরাম ও হৃদয়সহ ৯ জনকে গ্রেপ্তারে এসব তথ্য পায় ডিবি। যেসব ফেসবুক আইডি বা পেজ থেকে আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, সেসব নামে নতুন আইডি খুলছে চক্রগুলো। গত বছর ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা আইডি ‘আহমেদ নীলয়’ ও ‘আদনান আহমেদ জয়’ ফের চালু করেছে অন্য তরুণ। নীলয় নামে আইডি করা জাহিদ হাসান রকি নামের ওই তরুণকে নজরদারিতে নেওয়া হয়েছে। জয় আইডির তরুণকেও শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা।

ডিবির এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, এই পেজগুলো বেশি পরিচিতি পাওয়ায় এবার এসএসসি পরীক্ষায়ও এই নামে পেজ চালু করেছে কয়েকজন তরুণ। তাদের মধ্যে রকি চালু করেছে নীলয় আহমেদ আইডি। রকি এবার একাদশ শ্রেণির ছাত্র। তিন বছর আগে শনাক্ত হওয়া ‘ডন ড্রাউন্ড’ আইডির সংশ্লিষ্টদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিজি প্রেসের একটি চক্র এবং শিক্ষকদের কয়েকজনকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানায় সূত্র।

জানতে চাইলে ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) মাহমুদ নাসের জনি কালের কণ্ঠকে  বলেন, ‘ফেসবুকে আইডি ও পেজ তৈরি করে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী কয়েকটি চক্র এরই মধ্যে শনাক্ত করেছি আমরা। কয়েকজন ধরা পড়েছে। অন্য গ্রুপগুলো ধরার চেষ্টা চলছে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না বলে আশা করছি। ’


মন্তব্য