kalerkantho


কালো তালিকাভুক্ত ‘ইসলামী সমাজ’কে সমাবেশের অনুমতি!

প্রশ্নের মুখে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের উগ্রবাদীদের একাংশ ‘ইসলামী সমাজ’ নামের একটি সংগঠনে যোগ দেওয়ার তথ্য পেয়েছে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ইসলামী সমাজ’ নিষিদ্ধ না হলেও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) তথ্য অনুযায়ী এ সংগঠন ‘কালো তালিকাভুক্ত’ বলে জানিয়েছে নগর পুলিশ। অথচ কালো তালিকাভুক্ত এই সংগঠনকেই সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের এই দ্বৈত অবস্থানের কারণে ওই সংগঠনের গ্রেপ্তার ২৪ নেতাকর্মীকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন নামঞ্জুর করেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নাজমুল হাসান।

আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ব্যর্থ হয়ে গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কালো তালিকাভুক্ত ‘ইসলামী সমাজ’-এর বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন ছিল।

তাহলে কেন তাদের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল? এ বিষয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, কালো তালিকাভুক্ত সংগঠনের কার্যক্রম পুলিশ পর্যবেক্ষণে রাখে। আর নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের গ্রেপ্তার করে। এ কারণেই কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও সংগঠনটিকে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে থাকতে পারে নগর পুলিশ।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ জানিয়েছেন, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী সমাজকে ২০০৯ সালে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এরা গণতন্ত্রিক আইন ও শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে। এরা ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার মতবাদে বিশ্বাসী।

পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, সংগঠনটিতে জেএমবি এবং জামায়াত-শিবির ছেড়ে আসা ব্যক্তিরা জড়িত। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতারাও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ’

সমাবেশের অনুমতির পর আবার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘সংগঠনটিকে প্রকাশ্যে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ঘরোয়া বৈঠক কিংবা নাশকতার পরিকল্পনার অনুমতি নিশ্চয় দেওয়া হয়নি। এখন সমাবেশের অনুমতি নিয়ে যদি কোনো সংগঠন গোপন তত্পরতা চালায় এবং নাশকতার প্রস্তুতি নেয়, তাহলে নিশ্চয়ই পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে নাশকতাকারীদের আইনের আওতায় আনবে এবং বিচারের জন্য আদালতে সোপর্দ করবে। ’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক আবতাফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। এখন মামলাটি তদন্তাধীন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মহানগরের পাহাড়তলী থানার মৌসুমী আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ২০১১ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় জামাল উদ্দিনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ওই ২৪ জনকে আটক করে হয়। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে পাহাড়তলী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রুহুল আমিন ‘ইসলামী সমাজ’-এর চট্টগ্রাম অঞ্চলের এবং মো. ইউছুপ আলী টঙ্গী অঞ্চলের প্রধান।


মন্তব্য