kalerkantho


শ্রীপুরে আওয়ামী লীগ

‘সংবর্ধনা’ ঠেকাতে তিন দিনের কর্মসূচি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘সংবর্ধনা’ ঠেকাতে তিন দিনের কর্মসূচি

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল হোসেন সবুজের সংবর্ধনা আয়োজনকে এবার যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিল দলের নেতাকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির উপজেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের জরুরি সভায় নেতাকর্মীরা ওই ঘোষণা দেয়।

পরে ওই সংবর্ধনা আয়োজনের প্রতিবাদে তিন দিনব্যাপী পৌর এলাকাসহ প্রতিটি ইউনিয়নে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর আগে বিকেলে উপজেলা যুবলীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের শ্রীপুর আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় যৌথ বর্ধিত সভা।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগসহ এর সহযোগী সংগঠন এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে সংবর্ধনার আয়োজন চলছে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ওই সংবর্ধনা আয়োজনকে ঘিরে দলে বিভক্তি ঘটানোর তৎপরতা চালাচ্ছে একটি পক্ষ।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয় বলে দলের ভেতর প্রচার রয়েছে। ওই বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে সভাপতি বহাল রেখে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইকবাল হোসেন সবুজকে মনোনীত করা হয় বলেও খবর ছড়ায়। এর আগে ইকবাল হোসেন সবুজ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

তবে শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বুলবুল দাবি করেন, ‘গঠন করা কমিটির অনুলিপি তো দূরের কথা, দলের কোনো নির্ভরশীল মাধ্যমও উপজেলা আওয়ামী লীগকে কোনো কিছুই অবগত করেনি। ’

নেতাকর্মীরা জানায়, তারা নিশ্চিত না হলেও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বলে দাবি করে ইকবাল হোসেন সবুজকে সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় তাঁর অনুসারীরা।

এতে উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

সংবর্ধনা আয়োজনকে সামনে রেখে গতকাল বিকেলে সংগঠনের উপজেলা কার্যালয়ে যুবলীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগ শ্রীপুর আঞ্চলিক শাখা যৌথ বর্ধিত সভা করে। পরে সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কমরউদ্দিন। উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান জামানের সঞ্চালনায় ওই জরুরি সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বুলবুল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা পরিষদের সদস্য নূরুল ইসলাম শিমুল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সবুজ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকিরুল হাসান জিকু প্রমুখ।

জরুরি সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বুলবুল বলেন, ‘আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি কোনো সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হতে দেওয়া হবে না। কেউ তা করতে চাইলে যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ-প্রতিহত করা হবে। ’

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকিরুল হাসান জিকু বলেন, ‘আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটির ছাত্রলীগ নেতা আল আমিন হত্যাকারীদের আয়োজন। আল আমিন হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণাসহ তা কার্যকরের আগে হত্যাকারীদের স্রেফ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানই নয়, সব আয়োজন প্রতিরোধ করা হবে। ’

পরে অনুষ্ঠেয় সংবর্ধনা আয়োজনের প্রতিবাদে আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি পৌর এলাকাসহ প্রতিটি ইউনিয়নে পৃথক সময়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন উপজেলা যুবলীগ সভাপতি। যুবলীগ ছাড়াও কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগও একাট্টা হয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেবে বলে জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

 


মন্তব্য