kalerkantho


রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ

ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন প্রচণ্ড চাপের মুখে গত সোমবার পদত্যাগ করেন। রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের বিতর্কে শেষ পর্যন্ত কপাল পুড়ল তাঁর। ট্রাম্প প্রশাসন শপথ নেওয়ার এক মাস এখনো পূর্ণ হয়নি। এর আগেই হোঁচট খেতে হলো। যুক্তরাষ্ট্রে এত অল্প সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করার নজির নেই।

অভিযোগ রয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ফ্লিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর শেষ সময়ে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন সেটি ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রত্যাহার করা হবে—এমনটাই কথা হয়েছিল তাঁদের মধ্যে। এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। তাঁদের এই কথোপকথনের রেকর্ড গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আছে বলেও গণমাধ্যমের খবরে উঠে আসে। কারণ হিসেবে জানানো হয়, কূটনীতিকদের ফোনালাপ রেকর্ড করা হয়। তবে ফ্লিন গোড়া থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

রেকর্ডের প্রসঙ্গটি আসার পর তিনি জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বরে তাঁদের মধ্যে কী কথা হয়েছিল তা তাঁর পুরোপুরি মনে নেই। অভিযোগ ওঠে, ওই আলোচনার বিষয়ে ফ্লিন বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন।

খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই ফ্লিনের পদত্যাগের দাবি ওঠে ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষ থেকে। এ নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই হোয়াইট হাউস তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করল। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইকেল ফ্লিন ভোটের প্রচারের দিনগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে ট্রাম্পের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। কখনো কখনো ট্রাম্পের প্রচার সমাবেশে সূচনা বক্তব্য নিয়ে আসতেও দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক এই প্রধানকে।

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দায়িত্বের বাইরের কারো কূটনৈতিক যোগাযোগ করার এখতিয়ার নেই। আর গত বছরের শেষ দিকে ফ্লিন যখন রুশ দূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তখনো নতুন প্রশাসনে তাঁর নিয়োগ পাকা হয়নি। গত ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর পরই জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট ফ্লিনের রুশ যোগাযোগ নিয়ে হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করে দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, ফ্লিন রাশিয়ার ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে পারেন।

ওই সময় থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। ফ্লিনের পক্ষ নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স কথা বলেন। এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার সোমবার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। এর পর পরই ফ্লিনের পদত্যাগের কথা জানানো হয়।

পদত্যাগপত্রে ফ্লিন লিখেছেন, রাশিয়ার দূতের সঙ্গে তাঁর টেলিফোন আলাপের বিষয়ে ‘অসম্পূর্ণ তথ্য’ দেওয়া হয়েছিল, তবে সেটা ‘ইচ্ছাকৃত নয়’। তিনি আরো লেখেন, ‘আমি জানি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স যে টিমের (প্রশাসন) নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেই টিম আমেরিকার ইতিহাসে সেরা প্রশাসন হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করবে। ’ তবে যা-ই হোক, ইস্তফা দিয়ে আপাতত মার্কিন রাজনীতিতে ‘হিরো’ হয়ে গেছেন ফ্লিন। শপথ নেওয়ার পর এক মাস ফুরোতে না ফুরোতেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের পছন্দ করা কোনো উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন—এমন নজির আমেরিকার ইতিহাসে নেই।

হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, জেনারেল কিথ কেলগকে অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এত দিন সামলাচ্ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চিফ অব স্টাফ।

রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া : ফ্লিনের পদত্যাগের সঙ্গে বারবার রাশিয়ার নাম এলেও এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি ক্রেমলিন। বরং ‘একে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে অভিহিত করে কিছুটা এড়িয়ে যাওয়ারই চেষ্টা করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়, ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর সঙ্গে রাশিয়ার কোনো সংযোগ নেই। ’

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশ : গ্যালপের এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশ। গত রবিবার জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। ৫৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানিয়েছে, ট্রাম্পের তৎপরতার প্রতি তাদের অনুমোদন নেই।

একই সময়ে ট্রাম্পের পূর্বসূরি বারাক ওবামার জনপ্রিয়তা ছিল ৬৫ শতাংশ। এমনকি জর্জ ডাব্লিউ বুশের জনপ্রিয়তাও ৫০ শতাংশের বেশি ছিল।


মন্তব্য