kalerkantho


মিট দ্য প্রেসে আইনমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীকে রাজনীতি থেকে সরাতেই পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীকে রাজনীতি থেকে সরাতেই পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র

ফাইল ছবি

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতেই পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়। অর্থায়ন বন্ধের এই ষড়যন্ত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জড়িত। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে ২০০৭ সালেও এ রকম ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আর বিশ্বব্যাংক দুর্নীতি প্রমাণের জন্য তত্কালীন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিতে বলেছিল। কিন্তু আমরা স্বাধীন দেশ হিসেবে আমাদের স্বাধীনতা তাদের হাতে তুলে দিইনি। ’

গতকাল মঙ্গলবার ল রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘কানাডার আদালতে পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। এ অবস্থায় বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মামলা করার অবকাশ নেই। কারণ একটি চুক্তির মাধ্যমে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া আছে। তবে বিশ্বব্যাংক আইনের ঊর্ধ্বে নয়। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্তরা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন না তা নয়।

আমার মনে হয় এ ব্যাপারে তাদের আইনি পরামর্শ নেওয়া উচিত। ’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এলআরএফ সভাপতি আশুতোষ সরকারের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনোজ কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল হান্নান, সাবেক সভাপতি এম বদি-উজ-জামান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াকিল আহমেদ হিরণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জনগণের টাকায় হচ্ছে। এর চেয়ে বড় গৌরবের কিছু নেই। আমরা যে কারো কাছে মাথানত করি না সেটা আমাদের শিখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ’ তিনি বলেন, ‘কানাডার আদালতে রায়ের পর এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত হবে ওই আদালতে যাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁদের সাক্ষ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা। ’

এই ষড়যন্ত্রের জন্য ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছেন সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আমি বলতে পারি, ড. ইউনূস পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধের পরিকল্পনার ষড়যন্ত্রে জড়িত। সব কিছুরই যে বিচার করতে হবে তা নয়। সব কিছুতে আইন নয়। এর বিচার দেশবাসী করবে। ’

উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন করার বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, এই আইনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এ আইন করা হবে বলে আশা করি।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালা গেজেট প্রকাশের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এর প্রয়োজনীয়তা আছে বলেই আইন মন্ত্রণালয় খসড়া তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টের কাছে মতামতের জন্য পাঠিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট মতামত দিয়ে সেটা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য পাঠান। সেটা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। সেখানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু বিষয় ছিল। এরপর রাষ্ট্রপতি গেজেট না করার সিদ্ধান্ত দেন। এখানে গেজেট প্রকাশ করা বা না করার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু করার নেই। তিনি বলেন, সর্বশেষ ১১৬ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় সরানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করি কিছুদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনমাফিক সব কিছুই করবে সরকার।

আইনমন্ত্রী বলেন, মামলাজট নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে। পুরনো মামলার জট নিষ্পত্তিতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতে বিচারকস্বল্পতা রয়েছে। এটা দূর করতে তিন শর বেশি বিচারক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে সবচেয়ে বেশি বিলম্ব ঘটে। এ জন্য আইনে সংস্কার আনা হচ্ছে।

নাগরিকত্ব আইনের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের আশ্বস্ত করতে চাই যে নিবন্ধন করতে হবে। তবে এ জন্য কোনো সময়সীমা রাখা হবে না। দুই বছরের মধ্যে নিবন্ধন করার বর্তমান বিধান দেওয়া হবে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্য ও বিচারপতি হওয়া যায় না। স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যায় না, রাজনীতি করা যায় না। আইন সংশোধন করে স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ও রাজনীতি করার সুযোগ রাখা হবে।


মন্তব্য