kalerkantho


এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম

২০ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



২০ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও স্থগিত

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে প্রথমবারের মতো তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার অপরাধে ২০ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর এমপিও বা মাসিক বেতন-ভাতার সরকারি অংশ স্থগিত করা হয়েছে।

তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এসংক্রান্ত আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে স্থায়ীভাবে এমপিও বাতিল কেন করা হবে না তার কারণ দর্শাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

গতকাল এসএসসি পরীক্ষার ষষ্ঠ দিনে ৪০ জন শিক্ষার্থী এবং দুজন শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ নিয়ে ছয় দিনে বহিষ্কার হলেন মোট ১৬ জন শিক্ষক। আর শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছে মোট ৬৭০ জন।

গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব অসীম কুমার কর্মকারের সই করা আদেশে বলা হয়েছে, যে ২০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষক, বাকিরা কর্মচারী। তাঁরা ঢাকা ও যশোর শিক্ষা বোর্ড এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের জনবল। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা হলেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির রামদিয়া বি এম বি সি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক বিমল চন্দ্র চক্রবর্তী, শেরপুরের আফছর আলী আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নূর ইসলাম, বেতমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনছুর আলী, সাতক্ষীরার আশাশুনির কাটাকাটি আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ছাবিলুর রহমান, একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রসময় কুমার মণ্ডল, শাহ সুলতান কারিগরি স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. নজমুল ইসলাম, বারহাট্টা কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজের প্রভাষক জিয়াউল হক; ফরিদপুরের মাদরাসা শিক্ষক মনিরুজ্জামান, বাহারুল উলুম দাখিল মাদরাসার ইবরাহিম মোল্লা, সালমান ফার্সি দাখিল মাদরাসার সাইদুল ইসলাম, পাচিম বিলনালিমা দাখিল মাদরাসার আইয়ুব খান, চুনঘাটা দাখিল মাদরাসার ওহিদুল ইসলাম, শোলাকুণ্ডু দাখিল মাদরাসার আবদুল মান্নান ও আশরাফ আলী, আজিজুল উলুম দাখিল মাদরাসার মো. সাইফুল্লাহ, সাবজান্নেছা কামিল মাদরাসার যাকারিয়া, ভুয়ারকান্দি দাখিল মাদরাসার লাভলি খানম এবং বাকিগঞ্জ ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অফিস সহকারী আবদুর রশীদ, বাহারুল উলুম দাখিল মাদরাসার অফিস সহকারী ফাইজুর রহমান ও আজিজুল উলুম দাখিল মাদরাসার অফিস সহকারী জসিমউদ্দিন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর বাইরে আরো ১০-১২ জন শিক্ষক এবং কেন্দ্রসচিবও কালো তালিকায় আছেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের আড়াইসিধা কেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রসচিব আশরাফ উদ্দিন। এ শিক্ষকের পকেটে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই প্রশ্নপত্র পাওয়া গিয়েছিল। তাঁকে ওই দিনই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্র সচিবের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।


মন্তব্য