kalerkantho


আমাদের সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য প্রবন্ধ

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আমাদের সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য প্রবন্ধ

১০-১৫ বছর ধরে নানা কাগজে-জার্নালে লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধের একটি সংকলন তৈরির জন্য তাড়া দিচ্ছিলেন পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের পরিচালক স্নেহভাজন কামরুল হাসান শায়ক। তাঁর আগ্রহে এই গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

যেহেতু কিছু লেখা সংবাদপত্রের সাহিত্য সাময়িকী অথবা বিশেষ দিবস উপলক্ষে লেখা, কিছু লেখা সাহিত্য-জার্নালের জন্য, এগুলো দৈর্ঘ্যে ও কাঠামোতে হেরফের আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাষায়ও। বিষয়বৈচিত্র্যে, শিল্প স্বাতন্ত্র্যে একই গ্রন্থ—তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আমাদের সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধ। বাংলা সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব ছাড়াও গ্রন্থটিতে পত্রস্থ হয়েছে রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা, আমাদের দেশের প্রচ্ছদশিল্প, বাঙালি-বাঙালিয়ানা ইত্যাদি বিষয়।

রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা আমার পছন্দের, আগ্রহেরও অন্যতম বিষয়। রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা নিয়ে বেশ কিছু রচনা লিখেছি। লিখেছি মধুসূদনের আধুনিকতা নিয়েও। লিখেছি নজরুলের চিন্তা, তাঁর দর্শন, বৈশ্বিক ভাবনাসহ নানা প্রসঙ্গেও। নিজের ভেতর বৈশ্বিক মাত্রাটি নজরুল অর্পণ করে গিয়েছিলেন।

তাঁর সাহিত্যে যে ছন্দটা পাওয়া যায়, তা শুধু প্রকরণগত বিষয় নয়—এটি জনজীবনের, মানবজীবনের, প্রতিদিনের ছন্দ। বস্তুত এভাবে আমি বিষয়টি দেখি, বিশ্লেষণ করি।

বইটিতে আরো যেসব বিষয় এসেছে, সেগুলো সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার্য। গবেষণার ক্ষেত্রে আমি ইতিহাসনির্ভরতা পছন্দ করি, কিছু রচনায় সেটাও রয়েছে। বইটিতে তাই ঘুরেফিরে এসেছে আমাদের ইতিহাস, জাতির ইতিহাস। দ্বিতীয় আমি যে বিষয়টি গুরুত্ব দিই, সেটি সংস্কৃতি। সংস্কৃতিটা সব সময় চর্চার বিষয়। শ্রেষ্ঠ অভ্যাসগুলোকে আমরা চর্চা বলি। আর সেই শ্রেষ্ঠ চর্চাগুলোই একটা সংস্কৃতি তৈরি করে, একটা ধারা তৈরি করে। সংস্কৃতির নানা ধারা নিয়ে, শ্রেষ্ঠ অভ্যাসগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।

রবীন্দ্রনাথের চিত্রভাবনা থেকে শুরু করে শেকসপিয়ারের নাটক কিংবা নজরুলের বৈশ্বিক চিন্তা বা মধুসূদনের কাব্যভাবনা—শিল্পসাহিত্যের নানা বিষয় তুলে আনতে চেয়েছি, বিশ্লেষণ করতে চেয়েছি। বাঙালির সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, শিল্পাঙ্গন, মুক্তিযুদ্ধসহ সম্ভাব্য সব উপাদান এই দুই মলাটের মধ্যে একত্র করা হয়েছে। আগ্রহী পাঠকদের জ্ঞান ও চিন্তার চাহিদা পূরণে যদি তা ভূমিকা রাখে, তাহলেই আমার শ্রম সার্থক হবে।

একুশের বইমেলায় প্রকাশের একটা তাড়া ছিল, সে জন্য বানান অথবা বাক্যবিন্যাসের ক্ষেত্রে কিছু ভুলত্রুটি রয়ে গেছে। সেগুলো পরের সংস্করণে পরিমার্জনা করা হবে। সেই ভরসায় পাঠকের হাতে তুলে দিচ্ছি। প্রবন্ধ-নিবন্ধগুলো পড়ে পাঠক যদি চিন্তার সামান্য খোরাকও পান, তাতেই এগুলো লেখার পরিশ্রম সফল হয়েছে বলে ধরে নেব।


মন্তব্য