kalerkantho


শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ

ধর্ষক ও ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে সালিসে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



লক্ষ্মীপুরে শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাইকে এক সালিস বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতার বেদম পিটুনির দৃশ্য স্থানীয়ভাবে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। পিটুনি থেকে বাঁচতে পারেনি ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী মেয়েটিও।

মারধরের সময় এক প্রত্যক্ষদর্শী মোবাইল ফোনে ওই দৃশ্য ভিডিও করে রাখে। ঘটনা দেড় মাস আগের হলেও সম্প্রতি ভিডিওটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হাতে হাতে ফিরছে।  

গত ৩১ ডিসেম্বর জেলার কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির উঠানে সালিসি বৈঠক চলছে। কয়েকটি কাঠের চেয়ারে বসে আছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউছুফ আলী ওরফে মিয়া ভাইসহ আরো কয়েক ব্যক্তি। একপর্যায়ে উঠে গিয়ে চেয়ারম্যান লাঠি দিয়ে অভিযুক্ত যুবককে পেটাতে শুরু করেন। ওই যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁকে এলোপাতাড়ি কয়েকটি লাথিও দেন চেয়ারম্যান। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ১৩-১৪ বছর বয়সী কিশোরীকেও একইভাবে লাঠি দিয়ে পেটান তিনি। চেয়ারম্যানের আগেও ওই যুবককে আরেক ব্যক্তি এসে মারধর করেন।

পরে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাই মো. আবদুল আলী ওরফে কালুকে (৩২) থানায় সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জানা গেছে, ঘরজামাই মো. আবদুল আলী ওরফে কালু তাঁর স্ত্রীর ছোট বোনকে নিয়ে চট্টগ্রাম পালিয়ে যান। পরে পরিবারের লোকজন তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এ নিয়ে ৩১ ডিসেম্বর সালিস বসে।

চরমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ফেলে মাদকসেবী ওই ঘরজামাই শ্যালিকাকে ধর্ষণ করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এ কারণে এক-দুইটা চড়-থাপ্পড় দিয়েছি। ’

হাজিরহাট তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হুমায়ুন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) মো. রেজাউল জানান, ভগ্নিপতি কৌশলে শ্যালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় কমলনগর থানায় মামলা করেছেন কিশোরীর বাবা। পরে ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চেয়ারম্যান তাদের নির্যাতন করেছেন বলে কেউ অভিযোগ করেনি।

কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজু বলেন, ‘ঘটনাটি কয়েকজন আমাকে জানিয়েছে। সালিসি বৈঠকে কারোর গায়ে হাত তোলার নিয়ম নেই। ’

জানতে চাইলে কমলনগর থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ফেসবুকে ভিডিওটি তাঁর নজরে আসেনি। এ বিষয়ে অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য