kalerkantho


সংসদে ওবায়দুল কাদের

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ শুরু এ বছরই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ শুরু এ বছরই

পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ রুটে পদ্মা নদীর ওপর দ্বিতীয় পদ্মা সেতুসহ দেশে আটটি বড় সেতু নির্মাণের কাজ চলতি অর্থবছরেই শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে নির্মিতব্য আটটি সেতু হচ্ছে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ অবস্থানে পদ্মা নদীর ওপর দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, ভুলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু, রহমতপুর-বাবুগঞ্জ-মুলাদী-হিজলা-মেহেদীগঞ্জ সড়কে আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর সেতু, লেবুখালী-দুমকী-বগা-দশমিনা-গলাচিপা-আমড়াগাছি সড়কে গলাচিপা নদীর ওপর সেতু, কচুয়া-বেতাগী-পটুয়াখালী-লোহালিয়া-কালিয়া সড়কে পায়রা নদীর ওপর সেতু, পটুয়াখালী-আমতলী-বরগুনা-কাকচিরা সড়কে পায়রা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু, বাকেরগঞ্জ-বাউফল সড়কে কারখানা নদীর ওপর সেতু এবং বরিশাল-ভোলা সড়কের তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু।

সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদীর প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, ডিজেলের মূল্য লিটারপ্রতি তিন টাকা কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে আন্ত জেলা রুটে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে তিন পয়সা কমানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নিম্নমুখী হওয়ার কারণে বাংলাদেশের বাজারেও মূল্য কমানো হয়। হ্রাসকৃত হারে বাসভাড়া আদায়ের জন্য নতুন ভাড়ার চার্ট সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য বেগম ওয়াসিকা আয়শা খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সড়কপথে উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ সহযোগিতায় বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন) মোটর ভেহিকেলস অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ) চুক্তিতে ভুটান শিগগিরই অনুসমর্থন করবে। এতে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। তিনি আরো জানান, সরকার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে চারটি রুটের মাধ্যমে মোটরযান চলাচল করছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে খুলনা-কলকাতা রুটে বাস সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে অ্যাগ্রিমেন্ট ও প্রটোকল স্বাক্ষর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রেলওয়েতে সাড়ে ১৩ হাজার পদ শূন্য : সংসদ সদস্য মিসেস আমিনা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক সংসদে জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েতে অনুমোদিত জনবল ৪০ হাজার ২৬৪ জনের বিপরীতে ১৩ হাজার ৬১১টি পদ শূন্য রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন শূন্য পদে জনবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নকরণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত রেলওয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১৫ হাজার ৩৯৯টি শূন্য পদ পূরণের জন্য ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৪৫টি পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। দুই হাজার ৫৯টি পদে নিয়োগ চলমান রয়েছে।

সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রেলওয়ের অব্যবহৃত ভূমির পরিমাণ ১০ হাজার ৬৯৩ দশমিক ২৯ একর। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেল উন্নয়নের বিষয়ে ২০১২ সালের ১৮ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই অব্যবহৃত ভূমিতে পিপিপির আওতায় আধুনিক হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ, আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারা হোটেল-কাম-বাণিজ্যিক ভবন, মোটেল, বহুতলবিশিষ্ট শপিং মল-কাম-গেস্ট হাউস ইত্যাদি নির্মাণের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, বর্তমানে পিপিপির আওতায় চট্টগ্রামের জাকির হোসেন রোডে পাঁচতারা হোটেল; চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও খুলনায় শপিং কমপ্লেক্স-কাম-গেস্ট হাউস এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে আধুনিক হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


মন্তব্য