kalerkantho


ইয়াসিন হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি

এবার চবি ছাত্রলীগে সংঘর্ষ আহত ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এবার চবি ছাত্রলীগে সংঘর্ষ আহত ৮

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনটির দুটি পক্ষ সংঘাতে জড়িয়েছে। গত শনিবার রাতে এ সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছে। এ সময় একটি হলে কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

এর আগে শনিবার দুপুরের দিকে সিটি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ইয়াসিন আরাফাত নামের এক কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও পুলিশ এ সংঘাতের কারণ জানাতে পারেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সিক্সটি নাইন ও ভিএক্স গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়। শাহজালাল হলের ১০টি কক্ষ ভাঙচুর করা হয় বলে জানায় পুলিশ। ওই দুই পক্ষই হচ্ছে মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী।

এ ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ছাত্রলীগের বিবদমান দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে বগিভিত্তিক সংগঠন সিক্সটি নাইন ও ভিএক্স গ্রুপের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের সঙ্গে এ বৈঠক হয়।

বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী, সহকারী প্রক্টররা ও হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী প্রক্টর হেলাল উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণ জানতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংগঠনের সংশ্লিষ্ট নেতাদের ডাকা হয়েছে।

ছাত্রলীগকর্মী ইয়াসিনের দাফন, সংঘাতের কারণ জানতে পারেনি পুলিশ : চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছিল সেই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পায়নি পুলিশ। যদিও প্রাথমিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ ও দুই পক্ষের ‘মন-কষাকষি’র কারণে সংঘর্ষ হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

তবে কেবল সিনিয়র-জুনিয়র কিংবা মন-কষাকষি থেকেই ছাত্রলীগকর্মী ইয়াসিন আরাফাতকে (২২) হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছে না পুলিশ। এর নেপথ্যে আরো কারণ আছে ধরে নিয়েই পুলিশ হত্যারহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও গতকাল সন্ধ্যায় ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আর কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খুনের পর প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে দুই পক্ষের মন-কষাকষির কারণেই এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে তাদের মধ্যে একদফা তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল, পরে তা ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তি হয়েছিল। কিন্তু বিকেলে তারা একটি খাবার হোটেলে গিয়ে পুনরায় বিবাদে জড়ায়, সেখানে ছুরিকাঘাতের কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ’ তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে কী হয়েছিল, সেই বিষয়ে এখনো অনুসন্ধান শেষ হয়নি। মামলা দায়েরের পর বিস্তারিত তদন্তে প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে।

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসীম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, শুধু সিনিয়র-জুনিয়র গ্রুপবিষয়ক দ্বন্দ্ব না অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে বিরোধ সেই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে খুনের ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ কাজ করছে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, গতকাল দুপুরে ইয়াসিন আরাফাতের প্রথম জানাজা সিটি কলেজ প্রাঙ্গণে হয়েছে। সেখানে তাঁর বাবা কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, বিকেলে সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে ইয়াসিনকে দাফনের পর তিনি নগরে ফিরে মামলা করবেন।


মন্তব্য