kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের প্রস্তুতি

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব আসছেন ২৩ ফেব্রুয়ারি

মেহেদী হাসান   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভারতের পররাষ্ট্র সচিব আসছেন ২৩ ফেব্রুয়ারি

ঝটিকা সফরে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা করাই জয়শঙ্করের সফরের মূল উদ্দেশ্য। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র গত সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে জানায়, আগামী এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যাওয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। সেই সফরকে ফলপ্রসূ করার জন্যও উভয় পক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাব্য তারিখ এবং চুক্তি ও সমঝোতাগুলোর বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সফরে আলোচনা হতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এ দেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সফরের বিষয়ে আলোচনা করবেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ২০১৫ সালের ৫ ও ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় সফরের ফিরতি সফর হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিগগিরই ভারতে পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন। এ সফরে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে উভয় দেশ এরই মধ্যে কয়েক ডজন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া চূড়ান্ত করেছে। গত মাসে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকায় অনুষ্ঠিত উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতাবিষয়ক এক বৈঠকে ওই চুক্তি ও এমওইউগুলোর খসড়া পর্যালোচনা করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ও এর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা নিয়মিত একটি প্রক্রিয়া। এতে গতি আনা বা নতুন করে গতিসঞ্চার করার ক্ষেত্রে শীর্ষপর্যায়ের সফর বিনিময় একটি সুযোগ।

এ ধরনের সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, যেভাবে দুই দেশের সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে তা বর্তমান সময়ে বিরল। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনামতো কর্মকর্তা পর্যায়ে কয়েক বছর ধরে কাজটি হয়েছে। আর শীর্ষ নেতারা মুহূর্তের মধ্যেই এটি সমাধান করে দিয়েছেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, গত বছর অক্টোবর মাসে ভারতের গোয়ায় ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের সময়ই পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফরে তাঁর ভারত সফরে আসার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সফরের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হলেও ‘গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের’ (জিএফএমডি) সম্মেলনের কারণে বাংলাদেশ ওই সফর পিছিয়ে ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে করার প্রস্তাব দেয়। এরপর ওই সফর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আলোচনা হলেও ভারতে কেন্দ্রীয় বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্বাচনসহ অভ্যন্তরীণ ব্যস্ততায় তা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর পিছিয়েছে তা বলা যাবে না। কারণ সফরের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই ঘোষণা করেনি। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।  

তিস্তা চুক্তিতে বাগড়ার পর গঙ্গা ব্যারাজেও মমতার আপত্তি : কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সম্ভাব্য চুক্তিগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিনিময় করা তালিকায় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্থান পায়নি। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে এ চুক্তির জোরালো কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পে ভারত সায় দিয়েছে বলে বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বললেও শেষ পর্যন্ত এটিও অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় গতকাল প্রকাশিত ‘রাজ্যকে ডুবিয়ে পদ্মার বাঁধে নারাজ মমতা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আপত্তির পর গঙ্গা ব্যারাজ নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তি জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার মনে করছে, বাংলাদেশে পদ্মা নদীতে ব্যারাজ হলে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদে নদীভাঙন তীব্র হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দিল্লি এগোতে পারছে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গকে বন্যা ও ভাঙনের মুখে ঠেলে দিয়ে ঢাকাকে বাঁধ (ব্যারাজ) দিতে দেওয়া যাবে না। এমনকি এ নিয়ে দুই দেশের আলোচনার মধ্যেও পশ্চিমবঙ্গ থাকবে না।


মন্তব্য