kalerkantho


লাইটার জাহাজ শ্রমিকদের ধর্মঘট

দুই পক্ষের রেষারেষিতে পণ্য পরিবহনে বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দুই পক্ষের রেষারেষিতে পণ্য পরিবহনে বাধা

অন্য একটি শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে রেষারেষির কারণে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই ধর্মঘট কর্মসূচি পালন শুরু করেছে লাইটার জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়ন। নতুন বেতন-ভাতা কার্যকরের জন্য সংগঠনটি ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মালিকদের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।

কিন্তু হঠাৎ করে ১০ ফেব্রুয়ারি রাতেই তারা ধর্মঘট শুরু করে।

গতকাল রবিবার ধর্মঘটি শ্রমিকরা পণ্য পরিবহনে বাধা দেয়। তবে বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাস যথারীতি হয়েছে।

জানা যায়, নতুন বেতন-ভাতা কার্যকরের দাবিতে লাইটার জাহাজ শ্রমিকদের দুটি সংগঠন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল।   লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত সময় দিয়ে এরপর ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল। এরই মধ্যে নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে জাহাজ মালিকরা ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় চান। এতে সাড়া দিয়ে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে লাইটার জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা দুই দিন আগেই হঠাৎ ধর্মঘট শুরু করেন।

গতকাল সকাল থেকে ধর্মঘটি শ্রমিকরা কর্ণফুলী নদীর ১৬ ঘাটে পণ্য খালাসে বাধা দিতে শুরু করে।

এমনকি নতুন বেতন-ভাতা পরিশোধকারী জাহাজগুলো সাদা পতাকা উড়িয়ে চলাচল করলেও ধর্মঘটিদের বাধার মুখে পড়ে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাহাজ মালিকরা আলোচনার সময় শ্রমিকদের মূল সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও সৈয়দ শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বাধীন সংগঠনের সঙ্গে না বসায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা এক দিন আগেই ধর্মঘট পালন শুরু করেন।

এ ছাড়া হঠাৎ ধর্মঘটে যাওয়ার আর কোনো যৌক্তিক কারণ জানাতে পারেননি লাইটার জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, এটা ভুল-বোঝাবুঝি ছিল। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতা এবং পরে কালের কণ্ঠ’র কাছে করা মন্তব্যেও তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে এর পর থেকেই কর্মসূচি কার্যকরের কথা বলেন।

শ্রমিকদের এক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ধর্মঘট ডাকল এক পক্ষ, আর নির্দিষ্ট সময়ে পালন শুরু করল আরেক পক্ষ—এটা হাস্যকর। এতেই প্রমাণিত হয় এরা শ্রমিকদের বিচ্ছিন্ন একটি অংশ।

এদিকে ধর্মঘটের বিষয়ে আলোচনার জন্য গতকাল রাতে ঢাকায় গেছেন আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতারা। আশা করা হচ্ছে, সেখানে ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে লাইটার জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ নৌমন্ত্রী শাজাহান খান আমাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় দিয়েছেন। এর পরই আমরা সিদ্ধান্ত জানাব। ’

ধর্মঘটের হুমকি-ধমকির মধ্যেই বেশির ভাগ জাহাজ পণ্য পরিবহনে সচল ছিল। তবে আন্দোলনকারীদের বাধার কারণে কর্ণফুলীর ১৬টি ঘাট থেকে পণ্য আনা-নেওয়ায় ব্যাঘাত ঘটেছে।

পণ্য পরিবহনে ছোট জাহাজ বুকিং দেওয়া সংগঠন ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য নামানোর কাজ গত শনি ও রবিবার চলেছে। ব্যাঘাত হলেও বড় কোনো সমস্যা হয়নি। আজ সোমবারের জন্য ৮টা জাহাজ বুকিং দেওয়া হয়েছে সেগুলো নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে ছেড়ে যাবে। ’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচলরত ৮০০ জাহাজ মালিকের দেড় হাজার লাইটার বা ছোট জাহাজ রয়েছে। এ ছাড়া ভারত রুটে চলাচল করে ৪০০ জাহাজ, মোংলা বন্দরের আশপাশে চলাচল করে সাড়ে ৪০০ জাহাজ। এর মধ্যে কত শতাংশ মালিক নতুন হারে বেতন-ভাতা দিয়েছেন—এর সঠিক কোনো হিসাব নেই। যেসব জাহাজ মালিক গেজেট মতে নতুন বেতন-ভাতা কার্যকর করেছেন, তাঁদের জাহাজ সাদা পতাকা লাগিয়ে পণ্য পরিবহন করার ঘোষণাও কার্যকর করা হয়নি।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর ও কর্ণফুলী নদীর ১৬টি ঘাট এবং বিভিন্ন জেটি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বছরে চার কোটি টন পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। এর বড় অংশ নিজস্ব জাহাজের মাধ্যমে শিল্প-কারখানার মালিকরা পরিবহন করে থাকেন। আর দেড় কোটি টন পণ্য ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের মাধ্যমে জাহাজ বুকিং দিয়ে পরিবহন করা হয়ে থাকে।


মন্তব্য