kalerkantho


বিচারকদের চাকরিবিধি

গেজেট জারিতে সময় কেন আজই জানানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গেজেট জারিতে সময় কেন আজই জানানোর নির্দেশ

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করতে কেন বারবার সময় নেওয়া হচ্ছে, তা লিখিতভাবে জানাতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আজ সোমবারই তা আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।

আদালত বলেছেন, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা সংবিধান পেয়েছি। এই সংবিধানের রক্ষক সুপ্রিম কোর্ট। এটা রক্ষার দায়িত্বও আমাদের।

গতকাল রবিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ নির্দেশ দেন। গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের প্রেক্ষাপটে আদালত এ নির্দেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। এ বিষয়ে আজ সোমবার আবার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের জের ধরে নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে বিচার বিভাগের কোনো টানাপড়েন নেই।

শুধু বিধিমালা গেজেট হয়ে গেলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে গেজেট জারি করতে রাষ্ট্রপক্ষকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে গতকাল শুনানির দিন ধার্য ছিল। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে দুই সপ্তাহ সময়ের আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারি করে আদালতে দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। সেটাও তো করেননি? কেন করেননি সেটা লিখিত আকারে ব্যাখ্যা দিয়ে আদালতকে অবহিত করুন। ’

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি নিজেও চাই বিধিমালার গেজেট হয়ে যাক। ঝামেলা না থাকুক। এ জন্য সময় চাচ্ছি। ’ আদালত বলেন, ‘বিধিমালা না থাকার কারণে নিম্ন আদালতের কিছু বিচারক শৃঙ্খলার বাইরে চলে যাচ্ছেন। শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারি করা না করার বিষয়টি স্পষ্ট করে আমাদের জানান। প্রশাসনের সঙ্গে বিচার বিভাগ দ্বন্দ্বে জড়াতে চায় না। ’ আদালত বলেন, ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা সংবিধান পেয়েছি। এ সংবিধানের রক্ষক সুপ্রিম কোর্ট। এটা রক্ষার দায়িত্বও আমাদের। ’

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় বিধিমালার একটি খসড়া তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। ওই বিধিমালা সংশোধন করে দেন আপিল বিভাগ। এ খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এই বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করে তা দাখিল করতে গত বছর ২৮ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। একই বছরের ৬ নভেম্বরের মধ্যে এ গেজেট আদালতে দাখিল করতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত বছর ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ গেজেট দাখিল না করে আদালতের কাছে গেজেট জারির জন্য আরো আট সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করে। আদালত একই বছরের ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট জারি করতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন। এদিন রাষ্ট্রপক্ষ আরো সময় চেয়ে কয়েক দফা আবেদন করে। আদালত সময় দেন।

সর্বশেষ গত বছর ৮ ডিসেম্বর এক আদেশে দুই সচিবকে তলব করেন আপিল বিভাগ। তাঁদের ১২ ডিসেম্বর হাজির হতে বলা হয়। আদালতের আদেশে নির্ধারিত দিনে হাজির হন আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব। তাঁরা রাষ্ট্রপতির একটি প্রজ্ঞাপন নিয়ে হাজির হন। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গেজেট জারির প্রয়োজন নেই। তবে আপিল বিভাগ বলেন, এটা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন। এখানে কোনো আপস নেই। এ অবস্থায় আদালত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট জারির নির্দেশ দেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ গেজেট জারি না করে একের পর এক সময়ের আবেদন করছে। সর্বশেষ গতকাল দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ব্রিফিং : পরে অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন বিধিমালাসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের প্রয়োজন নেই। আবার যদি এটা করতেই হয়, তাহলে সেটি সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির কাছেই পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠানো উচিত। আর সেটিই করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ অংশ সংশোধন করে তা পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে। আমি আদালতের কাছে সেই কথাটি বলেছি। আদালত আমাকে সময় চাওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানাতে বলেছেন। ’

মাহবুবে আলম বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে জানানো হয়েছে এখন আর কোনো অসুবিধা নেই। এটা সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। এজন্য সময় লাগতে পারে। ’ তিনি বলেন, যেকোনো বিষয়ে বিধিমালা না থাকলে বিশৃঙ্খলা হবেই। এ বিষয়ে বিধিমালা থাকুক সেটা সরকারও চায়, সুপ্রিম কোর্টও চান। কিন্তু সমস্যাটা হলো, এখানে কার কতটুকু ক্ষমতা থাকবে, তা নিয়ে। তবে গেজেট হয়ে গেলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।


মন্তব্য