kalerkantho


অভিবাসননীতি

সহস্রাধিক আটক আসছে ট্রাম্পের ‘নতুন আদেশ’

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সহস্রাধিক আটক আসছে ট্রাম্পের ‘নতুন আদেশ’

সাত মুসলিম দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আদালতে স্থগিত হওয়ার পর এবার নতুন আরেকটি নির্বাহী আদেশ জারির কথা ভাবছেন তিনি। ফ্লোরিডাতে যাওয়ার পথে গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প এ কথা বলেন। মার্কিন গণমাধ্যম আভাস দিয়েছে, আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আর যাচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড়ের গোপন অভিযান চলছেই। নিউ ইয়র্ক, আটলান্টা, শিকাগো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে গত এক সপ্তাহে বৈধ কাগজপত্রবিহীন সহস্রাধিক অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

ফ্লোরিডা থেকে গত শুক্রবার ওয়াশিংটনের পথে থাকা এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঝটিকা সাক্ষাতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সন্দেহাতীতভাবে এ লড়াইয়ে জিতব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, এতে সময় একটু বেশি লাগছে। তবে একেবারে নতুন করে আরেকটা আদেশ জারি করাসহ আরো অনেক পথই আমাদের সামনে খোলা আছে। ’ নতুন আদেশ সম্পর্কে কিছু স্পষ্ট করে না বললেও ট্রাম্প একধরনের আভাস দিয়েছেন, ‘এতে খুব সামান্যই পরিবর্তন আনা হবে। ’ আগামী সোম বা মঙ্গলবার এ আদেশ জারি করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফেডারেল কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম  কোর্টে আইনি লড়াইয়ের আপাতত তাঁরা কোনো পরিকল্পনা করছেন না।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সক্রিয়ভাবেই পুরনো আদেশে পরিবর্তন অথবা নতুন আরেকটি নির্বাহী আদেশ জারির পরিকল্পনা করছি, যেটি আমাদের দেশকে সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত রাখবে। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশটি আমরা সুপ্রিম কোর্টে না নিয়ে বিচারব্যবস্থায় আর কী কী বিকল্প রয়েছে তাও খতিয়ে দেখছি। ’

ইরান, ইরাক, সিরিয়াসহ মুসলিম সাতটি দেশের নাগরিকদের সাময়িকভাবে ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখে সেসব দেশের নাগরিক ও অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার ক্ষেত্রে গত ২৭ জানুয়ারি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ট্রাম্প। পরে সিয়াটলের ফেডারেল আদালত তা স্থগিত করেন। আর আদালতের রুলিংয়ের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের আপিল আবেদনও গত বৃহস্পতিবার খারিজ হয়ে যায়। ওই আদেশের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাত্ক্ষণিক এক টুইটে তিনি লেখেন, এর সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত এবং বিষয়টি তিনি আদালতেই দেখবেন। বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পথ খোলা ছিল। কিন্তু সেই পথে সম্ভবত আর যাচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন।

চলছে ধরপাকড় : যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টরা অভিবাসী অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাগজপত্রবিহীন সহস্রাধিক অভিবাসীকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) লস অ্যাঞ্জেলেস শাখা কার্যালয়ের কর্মকর্তা ডেভিড মেরিন বলেন, নিউ ইয়র্ক, আটলান্টা, শিকাগো ও লস অ্যাঞ্জেলেস এবং এর আশপাশের এলাকায় নিয়মিত আইনপ্রয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

আইসিইর পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে আটলান্টা অফিসের মুখপাত্র ব্রিয়ান কক্স বলেন, তাদের কার্যালয়ের অধীনে থাকা তিনটি প্রদেশ থেকে ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। আর লস অ্যাঞ্জেলেস ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ১৬১ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান ডেভিড মেরিন। তিনি জানান, তাঁর জানা মতে ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চল থেকে ১৬১ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে এই ধরপাকড়ে অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের নির্বাহী পরিচালক আলি নুরানি বলেন, ‘অভিবাসীদের ঘরে ঘরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করা আমেরিকান যারা অভিবাসীদের বন্ধু ও পরিবারের মতো ভালোবাসে তাদেরও ওই আতঙ্ক স্পর্শ করেছে। ’


মন্তব্য