kalerkantho


চট্টগ্রামে ছাত্রলীগে সংঘর্ষ, ছুরি মেরে কর্মী খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রামে ছাত্রলীগে সংঘর্ষ, ছুরি মেরে কর্মী খুন

ইয়াছিন আরাফাত

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় এক কর্মীকে।

এ ঘটনায় আহত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরের কোতোয়ালি থানাধীন আমতল এলাকার হোটেল সাফিনার সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ছাত্রলীগকর্মীর নাম ইয়াসিন আরাফাত (২২)। তিনি সিটি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (অনার্স) তৃতীয়বর্ষের ছাত্র ছিলেন। সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ছাত্রলীগকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর নাম হারুনুর রশিদ (২৪)। তিনিও একই কলেজের ছাত্র।

হারুনের ছুরিকাঘাতে আরাফাত খুন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, দুপুর ১২টার দিকে কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের একটু সমস্যা হয়েছিল।

পরে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে ঘটনাটি মীমাংসাও হয়ে যায়। এরপর প্রথমে একপক্ষ আমতল এলাকায় একটি খাবার হোটেলে খেতে যায়। পরে অন্যপক্ষও যায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি লেগে যায় এবং এর মধ্যে হারুনের ছুরিকাঘাতে মারা যান আরাফাত। পুলিশ কর্মকর্তা জসিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমরা ঘাতক হারুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করি। সেও আহত। ’ তিনি আরো বলেন, ‘কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। এখনো থানায় মামলা হয়নি। ’ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুনেছি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে বিরোধের জেরে আমতল এলাকায় মারামারি এবং একে অন্যকে ছুরিকাঘাত করেন আরাফাত ও হারুন। আরাফাত মারা গেছেন। তাঁর গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন আছে। হারুন ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। ’

জানা যায়, সিটি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। গুরুতর আহত ইয়াছিন আরাফাতকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত হারুনুর রশীদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের অনেক নেতাকর্মী গা ঢাকা দিয়েছে।

মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহম্মেদ ইমু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ রকম ঘটনা সিটি কলেজে আগে কখনো ঘটেনি। অন্তঃকোন্দল নয়, মনে হচ্ছে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে হয়েছে। তারা ছাত্রলীগের কোনো পদে নেই। রবিবার কলেজ ক্যাম্পাসে ইয়াসিন আরাফাতের জানাজা হবে। ’


মন্তব্য