kalerkantho


পদ্মায় বল তুলতে নেমে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ

ঢাকা থেকে পিকনিক করতে গিয়েছিলেন চরে

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকার দোহারে মৈনট ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীর মধ্যবর্তী চরে ফুটবল খেলতে গিয়ে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর নাম মিজানুর রহমান মিন্টু ও শাওন সরকার।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, গতকাল শুক্রবার বিকেলে চরে ফুটবল খেলার একপর্যায়ে বলটি নদীতে পড়ে যায়। বলটি উঠিয়ে আনতে মিজান, শাওনসহ চারজন নদীতে নামেন। পরে দুজন পানি থেকে উঠে এলেও মিজান ও শাওনের খোঁজ মেলেনি।

জানা যায়, মিজান ও শাওন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক ফার্মগেট শাখার তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে ঢাকা থেকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ব্যাচের পাঁচ ছাত্রীসহ ৩৪ শিক্ষার্থী নিজেদের উদ্যোগে বাসযোগে দোহারের মৈনট পদ্মা পারে পিকনিক করতে আসেন। দুপুরের দিকে তাঁরা মৈনট ঘাট থেকে ট্রলার নিয়ে নদীর মাঝে জেগে ওঠা চরে ঘুরতে যান। চরটি ফরিদুপর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলায় অবস্থিত।

এশিয়া প্যাসিফিকের শিক্ষার্থী পঙ্কজ দে জানান, মৈনটে ঘুরতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই চরে আগে থেকেই ফুটবল খেলছিলেন। পরে তাঁদের সঙ্গে খেলায় যোগ দেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান ও শাওন সরকার।

পদ্মার চরে খেলার একপর্যায়ে ফুটবলটি নদীতে গিয়ে পড়ে। বলটি উঠিয়ে আনতে মিজান, শাওন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নদীতে নামেন। পরে দুজন পানি থেকে উঠে এলেও মিজান ও শাওন পানির স্রোতে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন এবং দোহার ও চরভদ্রাসন থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। রাত ১০টার দিকে ট্রলারযোগে ওই চর থেকে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়।

প্রায় একই সময় ঘটনাস্থলে হাজির হন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সহকারী অধ্যাপক আসিফুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগেই পিকনিকে এসেছিল। বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে এসেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে ডুবরিরা। ’

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন বলেন, ‘সন্ধ্যার পরপরই আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে ঢাকা থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা কাজ করছে। অন্ধকারে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলবে। ’


মন্তব্য