kalerkantho


রাজধানীতে চলন্ত বাসে দুজনকে ছুরি মেরে ছিনতাই

চালক-হেলপারের যোগসাজশে যাত্রীবেশে ছিনতাইয়ের ফাঁদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাজধানীতে চলন্ত বাসে দুজনকে ছুরি মেরে ছিনতাই

রাজধানীতে চলন্ত বাসে দুজনকে ছুরি মেরে ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে একদল ছিনতাইকারী। গতকাল শুক্রবারের এ ঘটনায় আহত আলম মিয়া ও শফিকুল ইসলাম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে গতকাল ভোরে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে। ওই গাড়ির চালক, তার সহকারী ও যাত্রী বেশে থাকা কয়েক? তরুণ এতে জড়িত। বাসটি আটক করেছে পুলিশ। এর চালক ও হেলপারকে শনাক্ত করতে সুপারভাইজারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।  

আহত শফিকুল জানান, তাঁরা দুজন পুরান ঢাকার কাপ্তানবাজারে মাছের ব্যবসা করেন। গতকাল ভোরে তাঁরা মাছ কেনার জন্য যাত্রাবাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসটি টিকাটুলী যাওয়ার পর বাসের ভেতরে থাকা চার-পাঁচজন তাঁদের কাছে থাকা টাকা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তাঁদের দুজনকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে তাঁর কাছে থাকা ২০ হাজার এবং আলমের কাছে থাকা ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

বাসটি সায়েদাবাদ জনপদ মোড়ে এলে চালক-সহকারীসহ সবাই বাসটি ফেলে পালিয়ে যায়। এরপর সায়েদাবাদে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, আলমের পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শফিকুলের বাঁ হাতের কবজি ও ডান আঙুল কেটে গেছে। বাসচালক, তার সহকারী ও আরো কয়েকজন এ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাসটি আটক করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ঘটনাস্থলে থাকা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই শহীদুল্লাহ মামুন জানান, রাত সাড়ে ৪টার দিকে তিনি ফোর্স নিয়ে টহলে ছিলেন। এ সময় তুরাগ পরিবহনের বাসটি তাঁদের দেখে দ্রুত পালাতে থাকে। পুলিশও বাসের পিছু নেয়। একসময় বাসটি সায়েদাবাদ ব্রিজের পাশে সড়কদ্বীপে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। পালিয়ে যায় এর চালকসহ ভেতরের সবাই। পরে বাসের ভেতরে আহতদের পাওয়া যায়। তিনি আরো জানান, ছিনতাইকারী চক্রটি তুরাগ পরিবহনের বাস নিয়ে এভাবে রাতে যাত্রী তুলে তার সর্বস্ব কেড়ে নেয়। চক্রটিকে গ্রেপ্তার করতে ওই বাসের সুপারভাইজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


মন্তব্য