kalerkantho


বিএনপি নেতাদের অভিযোগ

নতুন সিইসি আওয়ামী চেতনায় রকিবউদ্দীনের চেয়েও এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নতুন সিইসি আওয়ামী চেতনায় রকিবউদ্দীনের চেয়েও এগিয়ে

বিএনপির নেতারা অভিযোগ করে বলেছেন, সাবেক আমলা কে এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পদে নিয়োগ দিয়ে সরকার দেশকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই নতুন সিইসি আওয়ামী চেতনার বিদায়ী সিইসি রকিবউদ্দীনের চেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী গতকাল শুক্রবার পৃথকভাবে এমন অভিযোগ করেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসির ভূমিকা শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, প্রধান ভূমিকা। এই প্রধান ভূমিকা পালনের জন্য যাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন তাঁদের নিয়ে বিতর্ক থাকাটা বাঞ্ছনীয় নয়। তাঁদের নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকা অপ্রয়োজনীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকার দেশকে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এবারের নির্বাচন কমিশন গঠনে জনমতের প্রতিফলন হয়েছে বলা যায় না। সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি ও তরিকত ফেডারেশন—তিনজন কমিশনার হয়েছেন এ তিন সংগঠনের দেওয়া নামের তালিকা থেকে। এই অস্বাভাবিক ঘটনার পেছনে কোনো আধ্যাত্মিক কারণই আছে বলা যায়।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে খেলাধুলা করা ঠিক হয়নি।

কারণ ইসি নির্বাচন পরিচালনার মূল প্রতিষ্ঠান। আর এই প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করার মূল প্রতিষ্ঠান হলো সে সময়ের সরকার।

এই দুটি প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষভাবে সাহসিকতার সঙ্গে আইন অনুযায়ী কাজ না করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

আয়োজক সংগঠন জাতীয়তাবাদী বন্ধু দলের সভাপতি শরীফ মোস্তফা জামান লিটুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

গতকাল সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, হবু প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা ‘আওয়ামী চেতনার’ বিদায়ী সিইসি কাজী রকিবউদ্দীনের চেয়েও কয়েক ধাপ অগ্রবর্তী। তিনি জনতার মঞ্চের মানুষ। বক্তব্য ও আচার-আচরণে মনে হচ্ছে তিনি ক্ষমতাসীন দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। তাহলে সেই ব্যক্তি কিভাবে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন করবেন? তাঁর অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থার সৃষ্টি হয়নি। সুতরাং জনমতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তিনি সাংবিধানিক পদটি থেকে সরে দাঁড়ালে জাতি স্বাগত জানাবে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘গতকাল ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন যে বিএনপি গত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল করেছে তার পরিণামে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনে দলটি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রবাদ আছে, দৈত্যকুলে প্রলাপ। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে তা-ই মনে হচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে বলতে চাই, একবার আপনার প্রধানমন্ত্রীকে বলুন, গদি ছেড়ে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন করতে। তাহলেই বোঝা যাবে, কোন দল রাজনৈতিক অঙ্গনে অপ্রাসঙ্গিক হয়েছে।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ার সমালোচনা করেন রুহুল কবীর রিজভী। একই সঙ্গে অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত খুনিদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। এ ছাড়া সারা দেশে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষমতাসীনদের হামলা, সংসদে গণমাধ্যমকে আক্রমণ করে সরকারি দলের সদস্যদের বক্তব্য, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে সাংবাদিক শিমুল হত্যাসহ নানা ঘটনা তুলে ধরেন তিনি।  

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য