kalerkantho


১৬ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট জমা দেয়নি ৯ সংস্থা

ফারজানা লাবনী   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



১৬ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট জমা দেয়নি ৯ সংস্থা

১৬ হাজার ২৬৮ কোটি ৯৪ লাখ ১২ হাজার ৯৫৩ টাকার ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি ৯ প্রতিষ্ঠান। বকেয়া আদায়ের জন্য আইনি পরামর্শ চেয়ে অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির সঙ্গে যুক্ত সারসংক্ষেপে ৯ প্রতিষ্ঠানের নাম ও বকেয়ার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বারবার তাগাদার পরও এসব প্রতিষ্ঠান ভ্যাট পরিশোধ করছে না। প্রতি মাসেই নিয়মিত ভ্যাট যুক্ত হয়ে বকেয়ার পরিমাণ বাড়ছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ৯ প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়ার পরিমাণ ১৬ হাজার ২৬৮ কোটি ৯৪ লাখ ১২ হাজার ৯৫৩ টাকা। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এনবিআরের তহবিলে জমা দেওয়ার জন্যই এ টাকা আদায় করা হয়েছে।

লিবরা ইনফিউশন লিমিটেডের কাছে ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার ৩২০ টাকা, তাবানী বেভারেজ লিমিটেডের কাছে ৩৪ লাখ ৮ হাজার ১২৫ টাকা, তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির কাছে ১২ হাজার ৯৬১ কোটি ৫৭ লাখ ৭০ হাজার ২৪৯ টাকা, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির কাছে ৮৬৪ কোটি ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৩৩ টাকা, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির কাছে এক হাজার ৬২৭ কোটি ৮৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭৬ টাকা, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির কাছে ৪৮৫ কোটি ৪৬ লাখ ২৪ হাজার ১২৪ টাকা, সাধারণ বীমা করপোরেশনের কাছে ৫৮ কোটি ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৪৭৪ টাকা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে ২৬৯ কোটি ১৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ও প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের কাছে এক কোটি ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫২ টাকার ভ্যাট বকেয়া রয়েছে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়কে এনবিআর বলেছে, চলতি অর্থবছরে এ বকেয়া ভ্যাট আদায় করা গেলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও কিছু প্রতিষ্ঠান বকেয়া পরিশোধ করছে না। তাদের কাছে বড় অঙ্কের রাজস্ব পাওনা রয়েছে।

এনবিআর বকেয়া আদায়ের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ধনী-দরিদ্র সবাই ভ্যাট দিতে বাধ্য হয়। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন ও হোটেল-রেস্তোরাঁর বিলের সঙ্গে ক্ষেত্র বিশেষে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করা হয়। গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা এ অর্থ এনবিআরে জমা না দেওয়া ঠিক কাজ নয়। কারণ এটা প্রতিষ্ঠানের নিজের অর্থ নয়, জনগণের অর্থ।


মন্তব্য