kalerkantho


গোলটেবিল বৈঠকে আইনমন্ত্রী

প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইনের কিছু ধারা বাতিল হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইনের কিছু ধারা বাতিল হচ্ছে

প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইনের কিছু ধারা-উপধারা বাতিল বা সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আনিসুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এসংক্রান্ত এক গোলটেবিল বৈঠকে শেষে মন্ত্রী বলেছেন, নাগরিকত্ব আইনের যেসব ধারা-উপধারা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে। যেসব ধারা বা উপধারা দেশের মানুষের জন্য ক্ষতিকর হবে, সেগুলো বাতিল বা সংশোধন বা পরিমার্জন করা হবে। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব আইনের ৫ ধারার উপধারা ২ ও ৩ এবং ৭ ধারার উপধারা ২(ঘ) ও ২(ঙ) বাতিল বা সংশোধন বা পরিমার্জন হবে।

এসব সংশোধনীর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক সংগঠন করার বিধিনিষেধ থাকছে না। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্তানদের নাগরিকত্ব নেওয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে দুই বছরের সময়সীমাও উঠে যাচ্ছে। ফলে জন্মের দুই বছরের মধ্যে নয়, যেকোনো সময় প্রবাসীদের সন্তানরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভের সুযোগ নিতে পারবে।

আইনমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, জনবান্ধব না হলে কিংবা বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য ক্ষতির কারণ হবে—এমন কোনো আইন বর্তমান সরকারের আমলে করা হবে না। তিনি আরো বলেন, সংবিধান রক্ষা করে প্রবাসী নাগরিকদের যতটুকু অধিকার রক্ষা করা যায়, তাই-ই করা হবে।

গতকাল সকালে সোনারগাঁও হোটেলে ওই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিজ’ নামের একটি সংগঠন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালকও ছিলেন তিনি। গোলটেবিল বৈঠকে অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। আলোচনায় অংশ নেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হক, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসাইন হুমায়ুন, ব্যারিস্টার সিয়াম আল দীন, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তোফায়েল সামী, দুবাইপ্রবাসী মামুন সরকার, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মায়া নেয়াল, ফ্যাশন ডিজাইনার তহুরা চৌধুরী, নারী উদ্যোক্তা প্রীতি চক্রবর্তী প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে এম এস সেকিল চৌধুরী বলেন, বিশ্বের ১৫২টি দেশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ লোক বসবাস করে। এদের কেউ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে, কেউ স্থায়ী নিবাসী হিসেবে কাজ করছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগ বাংলাদেশি নাগরিকত্বের অধীনে নানা দেশে কর্মজীবী হিসেবে আছে। কেউ কেউ ৩০-৩৫ বছর যাবৎ বিশ্বের নানা দেশে বাস করছে। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি দেশে অবস্থান না করায় এদের ভরণ-পোষণ, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষাসহ যাবতীয় ব্যয়ভার ও আনুষঙ্গিক সেবাব্যয় থেকে বাংলাদেশ মুক্ত রয়েছে। দেশের জন্য এটি বড় সাশ্রয়। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছে। গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান ও ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে রাখছে বৈপ্লবিক ভূমিকা। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নাগরিকত্ব আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিবেচনা করে প্রবাসী ও তাদের উত্তরাধিকারদের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লাগসই আইন দরকার। প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন কোনোভাবেই প্রবাসীদের জন্য প্রতিরোধমূলক হওয়া উচিত নয়। তাদের অবদান ও অংশগ্রহণ সমাজের কল্যাণে অভ্যর্থনামূলক হওয়া উচিত।

প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন, ২০১৬-এর খসড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। এটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য আছে। সেখান থেকে আবার মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে অনুমোদনের জন্য। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে তা সংসদে তোলা হবে। প্রস্তাবিত ওই আইনের বিভিন্ন ধারা-উপধারার কারণে প্রবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। নাগরিক হিসেবে নিজ দেশে নিগৃহীত হওয়ার মনোভাব সৃষ্টি হওয়ায় বহু প্রবাসী দেশে বিনিয়োগও করছেন না। এ অবস্থায় গতকাল ওই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে আইনমন্ত্রী জানান, জন্মের দুই বছরের মধ্যে নয়, যেকোনো সময় প্রবাসীদের সন্তানরা বাংলাদেশের নাগরিত্ব নেওয়ার সুযোগ পাবে, তবে  সে ক্ষেত্রে অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে। মন্ত্রী আরো জানান, প্রবাসীদের দেশে এসে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নির্বাচন এবং রাজনৈতিক সংগঠন করার অধিকারও নতুন আইনে বহাল থাকছে।

নতুন এই আইনে এর আগে প্রস্তাব করা হয়েছিল বিদেশে অবস্থানকালে প্রবাসীদের সন্তানদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেতে হলে জন্মের দুই বছরের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে। তা ছাড়া নতুন আইনের খসড়ায় প্রবাসীদের রাজনীতি করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।


মন্তব্য