kalerkantho

আবারও সমালোচনা করলেন ট্রাম্প

আদালতও রাজনৈতিক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আদালতও রাজনৈতিক

আবারও আদালতকে একহাত নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প বলেন, ‘আদালতের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে, আদালতও রাজনৈতিক।

’ মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের ভ্রমণে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হয়ে যাওয়া নিয়ে এ নিয়ে দুইবার আদালতের সমালোচনা করলেন তিনি।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নিয়ে আবারও সমালোচনা শুরু হয়েছে নানা মহলে। এরই মধ্যে সিনেট ট্রাম্পের মনোনীত নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছে। এই নিয়ে ট্রাম্প মনোনীত ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভার ষষ্ঠ ব্যক্তি সিনেট বাধা অতিক্রম করল।

ট্রাম্পের গত ২৭ জানুয়ারি জারি করা নির্বাহী আদেশে ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে আদালতের আদেশে গত সপ্তাহে ওই নিষেধাজ্ঞার একটি অংশ স্থগিত হয়ে যায়। ফেডারেল কোর্টের ওই আদেশ বাতিল চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের করা একটি আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে শনিবার নাইন্থ সার্কিট আপিল কোর্ট নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের দাবি নাকচ করে দেন। আদেশে বলা হয়, পুরো আপিল শুনানি  শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিতই থাকছে।

ওয়াশিংটন হোটেলে প্রধান শহরগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে গত বুধবার আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গটি টেনে আনেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি একটি আদালতকে পক্ষপাতদুষ্ট বলতে চাই না। সুতরাং আমি এটাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলব না। তা ছাড়া আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। তবে আদালতের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে, তাঁরাও রাজনৈতিক। তাঁরা যদি পুরো বিষয়টির চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেন, সেটিই হবে আমাদের বিচারপদ্ধতির জন্য মঙ্গলময়। ’

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশে পরবর্তী চার মাসের জন্য সব ধরনের শরণার্থী ও পরবর্তী তিন মাসের জন্য ওই সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

জেফ সেশনস যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোনীত জেফ সেশনসের নিয়োগ অনুমোদন করেছে সিনেট। বুধবার সিনেটের ভোটাভুটিতে ৮৪তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ৫২-৪৭ ভোটে আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর সেশনসের নিয়োগ নিশ্চিত হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সবচেয়ে বিতর্কিত মনোনয়নগুলোর মধ্যে সেশনস অন্যতম। তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্য করার অভিযোগ আছে। এই অভিযোগের কারণে ১৯৮৬ সালে তাঁর ফেডারেল বিচারক হওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।

ভোটাভুটির আগে সেশনসের মনোনয়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে দীর্ঘ শুনানি হয়। এতে নাগরিক অধিকারের বিষয়ে সেশনসের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানান ডেমোক্র্যাট সিনেটররা। শেষ পর্যন্ত দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারেই সিনেটের ফলাফল নির্ধারিত হয়। শুধু ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জো মানচিন সেশনসের পক্ষে ভোট দেন।

বিচার বিভাগে ৯৩ জন কৌঁসুলিসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে এক লাখ ১৩ হাজার কর্মী আছেন। এই বিভাগেরই দায়িত্ব নেবেন সেশনস। তিনি ট্রাম্পের মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ এবং অভিবাসনবিরোধী উদ্যোগের একনিষ্ঠ সমর্থক। সাবেক কৌঁসুলি সেশনস ১৯৯৬ সালে সিনেটর নির্বাচিত হন।

নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার পর এক টুইট বার্তায় সেশনসকে অভিনন্দন জানান ট্রাম্প।

চিনপিংকে ট্রাম্পের চিঠি

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে চিঠি দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে দুই নেতার মধ্যকার দূরত্ব কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ট্রাম্প ফোনে কথা বললেও শি চিনপিংয়ের সঙ্গে তা হয়নি। এবার সরাসরি চিঠি পাঠিয়ে শির সঙ্গে প্রথমবারের মতো যোগাযোগের সূচনা করলেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেকের সময় শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোয় চিঠিতে শিকে ধন্যবাদ দিয়েছেন ট্রাম্প। চীনের সঙ্গে ‘গঠনমূলক’ সম্পর্কের অপেক্ষায় আছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।   সেই সঙ্গে চীনা নববর্ষ উপলক্ষে দেশটির জনগণের সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য