kalerkantho


অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি

ছাত্রলীগের সেই দুই নেতা কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ছাত্রলীগের সেই দুই নেতা কারাগারে

সাব্বির ও আশিকের অস্ত্রহাতে সেই আলোচিত ছবি

রাজধানীর গুলিস্তান ফুটপাতে হকার উচ্ছেদের সময় মারামারি করা ও প্রকাশ্যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করার দায়ে বহিষ্কৃৃত দুই ছাত্রলীগ নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জামিনে পলাতক দুই আসামি আবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে জামিনের আবেদন নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন ও ওয়ারী থানা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান গতকাল সকালে আত্মসমর্পণ করেন। সকাল সাড়ে ১১টায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো.সারাফুজ্জামান আনসারীর আদালতের কাঠগড়ায় হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন চান তাঁরা। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দুজনকে আবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। ওই দিন তাঁদের রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়। গত ৪ ডিসেম্বর দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান মানিক বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। তাঁদের গুলিতে কেউ আহত হননি। এমনকি তাঁরা কাউকে মারধর করেননি।

দুই আসামি গত ১৭ নভেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। তাঁরা ৪ ডিসেম্বর আদালতে হাজিরও হন। কিন্তু হাজিরা দিয়ে আদালত ত্যাগ করার পর তাঁদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে স্বেচ্ছায় আদালতে এসেছেন। তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি করা হবে। ’ আইনজীবী আরো বলেন, তাঁরা যেহেতু স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়েছেন, সেহেতু তাঁরা পালাবেন না।

জামিনের বিরোধিতা করেন আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এসআই মাহমুদ। তিনি বলেন, আসামিরা হকারদের সমাবেশে গুলি ছুড়েছেন। তাঁদের এই অস্ত্র বৈধ কি অবৈধ, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।

শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন। আদেশে আসামিদের পরবর্তী শুনানির দিন হাজির করতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার নথিপত্র তদন্ত কর্মকর্তাকে হাজির করতে নির্দেশ দেন।

গত ৪ ডিসেম্বর সকালে দুই নেতা আদালতে হাজিরা দেন। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুজনের জামিন বাতিল করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. খুরশীদ আলমের আদালতে শুনানির জন্য নথি উপস্থাপিত হলে আসামিদের ডেকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর এই দুই বহিষ্কৃত নেতা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। হকার উচ্ছেদের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করা ও হকারদের মারধর করা এবং গুলি করায় তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলাটি হয়। আদালত জামিন দেওয়ায় বিষয়টি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

গত ২৭ অক্টোবর গুলিস্তানের ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করতে যায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ সময় ডিএসসিসির কর্মচারী ও একদল যুবকের সঙ্গে ওই এলাকার হকারদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে ওই যুবকদের মধ্যে সাব্বির হোসেন ও আশিকুর রহমানকে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এই ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সংগঠন থেকে তাঁদের বহিষ্কার করে। গ্রেপ্তারের ভয়ে দুজনই গাঢাকা দেন। গুলিবর্ষণ ও মারামারির ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়। পরে জামিন নেওয়ার পর রিমান্ডের আবেদন করলে তাঁরা আবার পলাতক হন।


মন্তব্য