kalerkantho


সদরপুরে স্বতন্ত্র এমপি ও আ. লীগ নেতার সমর্থকদের সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সদরপুরে স্বতন্ত্র এমপি ও আ. লীগ নেতার সমর্থকদের সংঘর্ষ

ফরিদপুরের সদরপুরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান ওরফে নিক্সন চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ সংঘর্ষের পর সদর ইউনিয়নে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

জানা যায়, গতকাল সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে মাসিক সমন্বয় সভায় যোগ দেন সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান। সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় থানার ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা ১০ দিন আগে সদরপুরের পিয়াজখালী এলাকায় এক জনসভায় দিয়ারা নাড়িকেলবাড়িয়া এলাকার লোকদের হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কেন?’

সভায় উপস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান সংসদ সদস্যের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে দুজনের কথা-কাটাকাটি শুরু হলে তড়িঘড়ি করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোকসানা রহমান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এ ঘটনার পর সংসদ সদস্য হলরুম থেকে বের হয়ে পাশেই সদরপুর বাজারে একটি দোকানে চা পান করতে যান। একই সময়ে কাজী শফিকুর রহমান মিছিল নিয়ে বাজারের দিকে অগ্রসর হলে দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমর্থকরা স্লোগান-পাল্টা স্লোগান দিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে পরস্পরকে ধাওয়া করে এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশের একাধিক দল উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকলে দুপুর ১২টার দিকে সদরপুর ইউনিয়নে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়।

সংঘর্ষকালে ‘আমার সংবাদ’ পত্রিকার সদরপুর প্রতিনিধি তোফাজ্জেল হোসেন টিটুসহ ১০ জন লাঠির আঘাতে আহত হয়। তোফাজ্জেলকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিনি জানান, সংঘর্ষের সময় ছবি তুলতে গেলে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাঁকে পিটিয়ে আহত করে। তাঁর ক্যামেরা, মোবাইল ফোন এবং মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়।

সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছে। তাদের হাতে সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা জনসভায় গুলি করার হুমকি দিচ্ছেন অথচ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ’

গুলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী শফিকুর রহমান বলেন, ‘এমপির সমর্থকরাই প্রথমে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার অধিকার আমাদের আছে। ’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুরের ইউএনও রোকসানা রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সদর ইউনিয়নে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

সদরপুর থানার ওসি হারুন অর রশিদ গতকাল সন্ধ্যায় জানান, এ ঘটনায় তখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ জানায়নি।


মন্তব্য