kalerkantho


উখিয়ায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন গণহত্যার শামিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন গণহত্যার শামিল

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জুলিয়া নিব্লেট। ছবি : কালের কণ্ঠ

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনকে গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক। গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এলাকায় রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের পর এ মন্তব্য করেন তিনি।

ব্লেকের সঙ্গে শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জুলিয়া নিব্লেট ও কানাডার হাইকমিশনার বিনোট পিয়েরে লারামিও ছিলেন। তাঁরা নির্যাতনের শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথাও বলেছেন।

পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিন হাইকমিশনার বলেন, ‘মিয়ানমারের দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় দিয়ে আসছে। এ জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ’ তাঁরা আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মিয়ানমারকে চাপ দেওয়া অব্যাহত থাকবে। এমনকি তাদের দেশগুলোও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক হয়েই মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে যাবে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘এখানে এসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অবস্থা জানা গেল। রোহিঙ্গারা আমাদের জানিয়েছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের ওপর ধর্ষণ, হত্যাসহ কী নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। এ নির্যাতন গণহত্যার শামিল।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে উখিয়া পৌঁছান তিন হাইকমিশনার। সেখানে গিয়ে প্রথমে তাঁরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) ও উন্নয়ন সংস্থা ‘এসিএফ’র স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এরপর সকাল ১১টার দিকে তাঁরা যান উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে। সেখানে তিন হাইকমিশনার অন্তত ৩০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন।

কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিকের হিসাব অনুযায়ী, গত চার মাসে ৯০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজারের মতো আছে কুতুপালং অনিবন্ধিত শিবিরে। আর টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত শিবিরে আছে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা।


মন্তব্য