kalerkantho


রাষ্ট্রপতিকে বিএনপি

শপথের আগেই সিইসির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নতুন নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যদের নিয়ে তেমন কোনো আপত্তি নেই জানিয়ে শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতারা। তাঁরা বলেছেন, ক্ষমতা না ছাড়ার উদ্দেশ্য থেকেই কে এম নুরুল হুদাকে ওই পদে বসানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেওয়ার আগেই সিইসির বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি। রাজধানীতে গতকাল বুধবার পৃথক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে এই কর্মসূচিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আমাদের মতে নবনিযুক্ত সিইসি বিতর্কিত। কারণ তিনি জনতার মঞ্চের সংগঠক ছিলেন। তিনি কুমিল্লায় ডিসি থাকাকালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি সরকারি অফিস থেকে নামিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁকে দিয়ে আগামীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে এমনটা পাগলেও বিশ্বাস করে না। ’

দুদু বলেন, ‘সিইসি ও চার কমিশনার এখনো শপথ গ্রহণ করেননি। চার নির্বাচন কমিশনার সম্পর্কে আমরা  কিছু বলতে চাই না।

মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করব, কোনো সুযোগ থাকলে শপথের আগেই সিইসির বিষয়টি বিবেচনা করুন। বিতর্কহীন কাউকে সিইসি করুন। ’

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে দুদু বলেন, ‘খালেদা জিয়া স্বাধীনতা সংগ্রামের নির্যাতিত নেত্রী। বাংলাদেশে এমন কোনো কারাগার নেই যেখানে তাঁকে রাখা যাবে। তাঁর বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার না হলে দেশে ঊনসত্তর বা নব্বইয়ের চেয়েও বড় বিদ্রোহ হতে পারে। ’

 

সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় কর্মসূচিতে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এ বি এম মোশাররফ হোসেন, খালেদা ইয়াসমীন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

‘ক্ষমতা না ছাড়তেই সরকারের এ সিদ্ধান্ত’ : বিএনপির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ক্ষমতা না ছাড়ার উদ্দেশ্য থেকেই সরকার কে এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসিয়েছে। গতকাল দুপুরে পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের উদ্যোগে ‘ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের ৬০ বছর পূর্তিতে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

নানা প্রশ্ন তুলে নোমান বলেন, ‘কে এম নুরুল হুদা কে ছিলেন? ১৯৭৩ সালে তিনি কী রাজনীতি করেছেন? আমরা কি আরো ভালো এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঠিক করতে পারতাম না? কিন্তু সেটা করা হয়নি। কারণ একটিই—বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকা ও ক্ষমতা না ছাড়া। ’

সংগঠনের সভাপতি পেশাজীবী নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর উদ্যোগে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক জসিমউদ্দিন আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, ছড়াকার আবু সালেহ, ডিএল সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সিইসির পদত্যাগ দাবি রিজভীর : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার দ্রুত পদত্যাগ চায় বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী গতকাল টাঙ্গাইলে এক স্মরণসভায় এ কথা বলেন। ১৯৮৭ সালে বর্ধিত বাসভাড়া নিয়ে আন্দোলনে নিহত আবু রায়হান জগলুর ৩০তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই স্মরণসভার আয়োজন করে জেলা ছাত্রদল।

রিজভী বলেন, ‘সরকার সমর্থিত নির্বাচন কমিশনার দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা পাবে না। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনও হবে না। তাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার দ্রুত পদত্যাগ চায় বিএনপি। ’

রিজভী বলেন, ‘বিএনপির হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পণ্ড করতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে সরকার লেলিয়ে দিয়েছে। হল ও জমি দখল এবং টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা এখন নিজেরা নিজেদেরই হত্যা করছে। ’


মন্তব্য