kalerkantho


রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

আন্দোলনে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ টানা ১৪ দিন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আন্দোলনে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ টানা ১৪ দিন

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর এবার শিক্ষকদের ধর্মঘটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে টানা ১৪ দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে—এমন অভিযোগ এনে শিক্ষক সমিতি গত সোমবার থেকে ধর্মঘট শুরু করে।

শিক্ষকদের এই অভিযোগ তদন্তে গতকাল বুধবার একটি কমিটি করা হয়েছে।

গত ২৮ জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ও ১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করে আসছিলেন। সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতিদিনই তাঁরা কর্মসূচি চালিয়ে যান। তাঁদের টানা আন্দোলনের একপর্যায়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নেয়। শিক্ষার্থীরা তাঁদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

ওই দিন রাতেই শিক্ষক সমিতির সভায় অনির্দিষ্টকালের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন সোমবার থেকে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা তাঁদের আন্দোলন চলাকালে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করাসহ বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষকদের নিয়ে বাজে মন্তব্যও করা হয়।

শিক্ষার্থীদের ওই আন্দোলনে শিক্ষকদের জিম্মি করে দাবি আদায়ে উসকানিদাতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষকদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সেকশনের উপপরিচালক গোলাম মুরতুজা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সের (আইআইসিএস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শহীদ উদ জামানকে তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হছে। অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. আব্বাস আলী, অধ্যাপক ড. মাজেদুর রহমান, ড. রবিউল ইসলাম ও ড. শাহেদ হাসান তুষার।

কমিটিকে গত ৪ ফেব্রুয়ারির ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ বলেন, ‘আজ (বুধবার) শিক্ষক সমিতির সঙ্গে দুপুরে আলোচনা হয়েছে। সেখানে শিক্ষকদের জানানো হয়েছে যে তদন্ত কমিটি অভিযোগ তদন্ত করবে। ’

উল্লেখ্য, ন্যূনতম ‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতি বাতিলের আন্দোলন চলাকালে গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রশাসন ভবনের প্রবেশপথে নিজ শরীরের রক্ত ঢেলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় ৩৩ ক্রেডিট প্রথা বাতিল করার পর উপাচার্য, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অবরোধমুক্ত হন।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘দুর্ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের শাস্তির বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে। বুধবার উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করে আমাদের দাবির কথা বলেছি। সে অনুযায়ী তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে শুনেছি। পরবর্তী অগ্রগতি দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। ’

গত রাতে কয়েকজন আন্দোলনকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ করেনি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সফলতা নিয়ে ফেসবুকে অনেকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। এর পরও শিক্ষকদের কাছে আগামী শনিবার তাঁরা নিঃশর্ত ক্ষমা চাইবেন। এরপর ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হতে আরা কোনো বাধা থাকবে না বলে তাঁরা মনে করেন।

উপাচার্য রফিকুল আলম বেগও আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘শিক্ষক সমিতি তাদের চলমান কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে শিগগিরই একাডেমিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সম্পৃক্ত হবেন এবং সব ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ করবেন। ’


মন্তব্য