kalerkantho


২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল

নুরুল হুদার নেতৃত্বে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নুরুল হুদার নেতৃত্বে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না

গতকাল রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নিরাশ ও হতাশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, তাঁরা মনে করেন বর্তমান ইসি গঠনে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দেরই প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘একজন বিতর্কিত সাবেক সরকারি কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। কাজেই কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে না। এমন একটি ইসি গঠনের পর নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আমাদের প্রস্তাবের যৌক্তিকতা আরো দৃঢ় হয়েছে। ’

গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নবগঠিত ইসি নিয়ে ২০ দলীয় জোটের পক্ষে মির্জা ফখরুল এ প্রতিক্রিয়া জানান। রাত সোয়া ৯টায় ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শুরু হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে এতে জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাত পৌনে ১১টায় বৈঠক শেষে ফখরুল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সব মহল থেকে দাবি ছিল সার্চ কমিটির বাছাই করা এই ১০ জনের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে এবং তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত ও কর্ম অভিজ্ঞতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে। এ পন্থা অনুসরণ করা হলে প্রক্রিয়াটি কিছুটা হলেও স্বচ্ছতা পেত।

কিন্তু তা করা হয়নি। আমরা নিরাশ ও হতাশ হয়েছি। শেষ মুহূর্তে  রুদ্ধশ্বাস দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় সন্দেহ হলো কাদের নির্বাচন কমিশনে রাখা হবে সেটি ছিল শাসকমহলের পূর্বপরিকল্পিত। সাংবিধানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী দুটি বিষয় ছাড়া (প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ) অন্য সব বিষয়ে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে বাধ্য। সংগত কারণেই আমরা মনে করতে পারি, ইসি গঠনে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দেরই প্রতিফলন ঘটেছে। ’

সিইসির বিষয়ে আপনারা আপত্তি জানাচ্ছেন, কিন্তু অন্য কমিশনারদের বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সিইসির ব্যাপারে আমরা আমাদের বক্তব্য বলেছি। অন্যদের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জাতির সামনে আস্তে আস্তে পরিষ্কার হয়ে আসবে। সিইসি সম্পর্কে যদি এই অভিযোগ থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের কী অবস্থা দাঁড়াচ্ছে তা আমরা সবাই বুঝতে পারছি। ’

বিএনপির তালিকা থেকে কাকে নেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘মাহবুব তালুকদার সাহেবের নাম আমরা দিয়েছি। ’

সিইসি নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কে এম নুরুল হুদা যুগ্ম সচিব হিসেবে চাকরিজীবন শেষ করেন। তিনি অতিরিক্ত সচিব ও সচিব হয়েছেন শুধুই কাগজে। প্রকৃতপক্ষে তিনি এক দিনের জন্যও অতিরিক্ত সচিব কিংবা সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি। ফলে এসব পদে দায়িত্ব পালনের কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। অভিজ্ঞ সচিব ছাড়া সিইসি নিয়োগের এ ঘটনা অভূতপূর্ব। রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়া এমন হওয়ার কথা নয়। ’

কে এম নুরুল হুদাকে বিএনপি সরকারের আমলে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে সচিব পদমর্যাদা প্রদানের ঘটনা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এর ফলে আমাদের দল সম্পর্কে তাঁর (নুরুল হুদা) মনে ক্ষোভ থাকতে পারে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেয়ে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি অনুরাগ পোষণ করতে পারেন। এমন দুই বিপরীত পরিস্থিতির মধ্যে তিনি কতটুকু নিরপেক্ষতা অবলম্বন করবেন, সে ব্যাপারে জনমনে যৌক্তিক প্রশ্ন রয়েছে। একটি নির্বাচন কমিশনের যাত্রার শুরুতে আস্থার সংকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যার জন্ম দিতে পারে। ’

ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক থাকাকালে কে এম নুরুল হুদা বিএনপি সরকারবিরোধী জনতার মঞ্চের একজন সংগঠক ছিলেন। এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া সরকারি চাকরিবিধির লঙ্ঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ২০১০-১৫ সাল পর্যন্ত তিনি মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড নামে সরকারি একটি প্রজেক্টের এমডি হিসেবে সরকারের লাভজনক পদে কাজ করেছেন। আমরা যে ১৩ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, তাতে বলেছি সরকারি চাকরি শেষে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিতদের ইসিতে অন্তর্ভুক্ত না করতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তাই হয়েছে। এসব কারণে স্বাভাবিকভাবে জনমনে কে এম নুরুল হুদা সম্পর্কে নেতিবাচক উপলব্ধি সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সার্চ কমিটি ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় না নেওয়া খুবই রহস্যজনক। ’


মন্তব্য