kalerkantho


ইউএসটি, চট্টগ্রাম

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রোগীশূন্য হাসপাতাল

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধনের দাবিতে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের কারণে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) পরিচালনাধীন বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল (বিবিএমএইচ) রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে। তিন দিন ধরে চট্টগ্রাম নগরে বেসরকারি এই হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া গত শনিবার পর্যন্ত ভর্তি হওয়া যেসব রোগী বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা না পেয়ে রোগীরা হাসপাতাল ত্যাগ করছে। নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছে না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। অচলাবস্থা নিরসন না হলে যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে হাসপাতালটি।

জানা গেছে, ৩৫০ শয্যার হাসপাতালটির অন্তর্বিভাগে গত রবিবার ৮৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় ওই দিন থেকে হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করে তারা। সোমবার ৪০ জন এবং গতকাল মঙ্গলবার রোগীর সংখ্যা আরো কমে এর অর্ধেকে নেমে আসে। সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে ২০ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আজ-কালের মধ্যে হাসপাতাল রোগীশূন্য হয়ে যেতে পারে।

কারণ নতুন করে রোগী ভর্তি করা বন্ধ আছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত রবিবার থেকে অঘোষিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদসহ কয়েকটি অনুষদের শিক্ষা কার্যক্রমও কার্যত বন্ধ রয়েছে।

জানা যায়, এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন রোগী ভর্তি হয়। এ ছাড়া বহির্বিভাগে শতাধিক রোগী চিকিৎসা নেয়। জরুরি বিভাগেও ৪০-৫০ জন রোগী আসে। আন্দোলনের কারণে গত মঙ্গলবার থেকেই বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে তালা ঝুলছে।

এ ব্যাপারে বিবিএমএইচের মহাপরিচালক অধ্যাপক বদিউল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেসব রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে তাদের সবাই চিকিৎসা পাচ্ছে। এমবিবিএসের তিনটি ব্যাচের নিবন্ধন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সে সংকট নিরসনে কাজ চলছে। ’

জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সভার নোটিশ প্রকাশিত হয়। ওই দিন দুপুর ২টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে। এতে চারটি আলোচ্যসূচির মধ্যে ২ নম্বরেই আছে ইউএসটিসির বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে অতিরিক্ত ভর্তি করা ছাত্রছাত্রীদের বিএমডিসির নিবন্ধনের বিষয়টি।

ইউএসটিসির উপাচার্য ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা দেড় মাস সময় নিয়েছিলাম। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। আশা করি সংকট সমাধান হয়ে যাবে। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. নুরুল আফসার বলেন, ‘নিবন্ধন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এমবিবিএস ২৫, ২৬ ও ২৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নিবন্ধনের দাবিতে আন্দোলন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদের মধ্যে চিকিৎসাসহ কয়েকটি অনুষদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, তা ঠিক। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২৫তম ব্যচের এক ছাত্র জানান, নতুন করে রোগী ভর্তি বন্ধ আছে। অন্তর্বিভাগে (ইনডোর) রোগীদের চিকিৎসায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি মানা না হবে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

আন্দোলনরত এক ছাত্রী বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হয়েছিল ১ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ইউএসটিসির উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হবে। কিন্তু অনিবার্য কারণবশত তা হয়নি। তাই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। আগে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝোলানো হয়েছিল। এখন হাসপাতালেও ঝোলানো হয়েছে। শিগগিরই যদি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না হয় তবে পুরো ইউএসটিসি অচল করে দেওয়া হবে। ’

চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেক এলাকায় স্থাপিত এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা অনুষদের অধীনে এমবিবিএস (ব্যাচেলর অব মেডিসিন, ব্যাচেলর অব সার্জারি) কোর্সের ২৫, ২৬ ও ২৭তম ব্যাচে সরকার নির্ধারিত আসনের অনেক বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এ কারণে ওই তিন ব্যাচের প্রায় এক হাজার ১০০ শিক্ষার্থীকে বিএমডিসি নিবন্ধন দেয়নি। পাঁচ বছরের কোর্সের প্রথম দেড় বছরের মধ্যে (প্রথম পেশাগত পরীক্ষা) বিএমডিসি থেকে ছাত্রত্বের নিবন্ধন পাওয়ার কথা ছিল।

শিক্ষার্থীরা বলছে, নিবন্ধন না হলে এমবিবিএস পাস করেও তারা ডাক্তার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে না। সে কারণে তারা বিপাকে রয়েছে। প্রায় এক হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪০০ জনের মতো বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৫ জন ভারতীয়।

গত ৯ জানুয়ারি ওই তিন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নিবন্ধন দাবি করে স্মারকলিপি দিয়েছে। ১০ জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ, চিকিৎসা, ইংরেজি ও প্রাণরসায়ন অনুষদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরের দুই দিন তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। গতকাল মঙ্গলবারও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।


মন্তব্য