kalerkantho


দুদক চেয়ারম্যান বললেন

শুনেছি ঘুষের রেট বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শুনেছি ঘুষের রেট বেড়েছে

একদিকে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), অন্যদিকে ঘুষের রেট বেড়ে গেছে। এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

গতকাল মঙ্গলবার সিরডাপ মিলনায়তনে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর আয়োজনে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে এনজিওদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন দুদক চেয়ারম্যান।

বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান অবশ্য বলেন, এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে তবে সত্যতা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সম্প্রতি দুদক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। ঘুষ নেওয়ার সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতেনাতেও ধরা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গত এক বছরে চার থেকে পাঁচ শ লোক ধরা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘কিন্তু এই অভিযানের ফলে দেখা গেল, আমাকে অনেকেই বলছে, আপনি ড্রাইভ দিচ্ছেন ভালো, কিন্তু এতে রেট বেড়ে গেছে। যারা দুর্নীতি করছে তারা বলছে, ভাই এখন চারদিকে দুদক, ঝামেলা, দশ টাকার জায়গায় এক হাজার টাকা দেবেন। এটা আমার কানে এসেছে।

’ তিনি আরো বলেন, এ কথাগুলো সত্য বা মিথ্যা এটা যাচাই করার দায়িত্ব আমার না। তবে এটা উদ্বেগের বিষয়। ’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি ঠেকাতে শুধু অভিযান নয়, সামাজিক আন্দোলন বাড়াতে হবে। সরকার, দুদক, স্কুল, মাদরাসার উদ্যোগ কোনো কিছুই দুর্নীতি ঠেকাতে কাজে আসবে না। দরকার দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে নিজে দুর্নীতি করলে কোনো ফল আসবে না। তিনি বলেন, দুদকের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে ব্যুরোর মহাপরিচালক আসাদুল ইসলাম বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘ব্যুরো মনে করে, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ই-ফাইলিংয়ের অংশ হিসেবে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর সব কার্যক্রম করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে আসাদুল ইসলাম মনে করেন।

অনুষ্ঠানে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানও বক্তব্য দেন। তাঁরা দুর্নীতি প্রতিরোধে এনজিগুলোর ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন।


মন্তব্য