kalerkantho


মৃত্যুহার কমে নারী ডাক্তারে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মৃত্যুহার কমে নারী ডাক্তারে

হাসপাতালে ভর্তি করা রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা কমাতে চান? তাহলে নারী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। চিকিৎসা নেওয়ার পর ফের হাসপাতলে ভর্তি হতে না চাইলেও নারী চিকিৎসককেই প্রাধান্য দিতে পারেন। নারী চিকিৎসক মমতাময়ী—এমন প্রচলিত ধারণা থেকে এ কথা বলা হচ্ছে না। দীর্ঘ ও বড় আকারের এক গবেষণায় এমন তথ্যই পেয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। গবেষকদের মতে, এর পরও সমাজের অন্যান্য অঙ্গনের মতো চিকিৎসা ক্ষেত্রেও নারীরা বৈষম্যের শিকার।

চিকিৎসা জগতে পেশাগত উন্নতিতে পুরুষ চিকিৎসকরা এগিয়ে, পিছিয়ে নারী চিকিৎসকরা। কিন্তু রোগীদের সুস্থ করে তুলতে সাফল্য কার বেশি? এ প্রশ্নটি সামনে রেখে গবেষণাটি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত হার্ভার্ড টিএই চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের (এইচএসপিএইচ) একদল গবেষক।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির হেলথ গ্র্যাজুয়েট স্কুলটির গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী ১৫ লাখ রোগীর ওপর এই গবেষণা চালান। এতে দেখা যায়, হাসপাতালে ৩০ দিন ভর্তি ছিল—এমন রোগীর মধ্যে যারা নারী চিকিৎসকদের হাতে চিকিৎসা নিয়েছে, তাদের মৃত্যুর হার কম। শতকরা হারে এর পরিমাণ ০.৪৩ শতাংশ। এই হিসাবে দেখে গেছে, নারীদের হাতে চিকিৎসা নেওয়ার ফলে এক বছরে ৩২ হাজার রোগী কম মারা গেছে।

এ সংখ্যাটি যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ মানুষ মারা যায় তার সমান। এ ছাড়া এমন রোগীর মধ্যে হাসপাতালে ফের ভর্তির পরিমাণও ০.৫৫ শতাংশ কম। গবেষণার ফলাফল গত ১ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয় ‘জেএএমএ ইন্টার্নাল মেডিসিন’ নামের একটি চিকিৎসা সাময়িকীতে।

গবেষণার সহযোগী লেখক ও এইচএসপিএইচের সহযোগী অধ্যাপক ইউসুকি সুগাওয়া বলেন, ‘মৃত্যুহারে এই পার্থক্য আমাদের বিস্মিত করেছে। ’ তাঁর মতে, মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসায় ডাক্তারদের নারী-পুরুষ পার্থক্যটি সুনির্দিষ্টভাবে তাত্পর্যপূর্ণ।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে এর আগে নারী চিকিৎসকদের ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন দক্ষতার ব্যাপারে জানা গেলেও চিকিৎসার সাফল্য নিয়ে দেশটিতে এটাই প্রথম কোনো গবেষণা। তবে গবেষকদের মতে, এর অর্থ এই নয় যে সব সময় আপনি নারী চিকিৎসকেই প্রাধান্য দেবেন। কারণ চিকিৎসকের ব্যক্তিত্ব, দৃষ্টিভঙ্গি, দক্ষতা, সক্ষমতাও রোগীর চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র : ফোর্বস ও এইচএসপিএইচ।


মন্তব্য