kalerkantho


দুই শতাধিক ‘রাজনৈতিক’ মামলা প্রত্যাহারে কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দুই শতাধিক ‘রাজনৈতিক’ মামলা প্রত্যাহারে কমিটি গঠন

বেশ কিছু হত্যা মামলা রাজনৈতিক মামলা হিসেবে প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফের তদবির শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লাসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলার দুই শতাধিক মামলা রয়েছে।

এ অবস্থায় একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি খতিয়ে দেখবে কোন কোন মামলা প্রত্যাহার করা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দুই শতাধিক মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের জন্য গত দুই বছরে আবেদন করা হয়েছে; যে মামলাগুলোর মধ্যে অর্ধশতাধিক হত্যা মামলাও রয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রভাবশালী মহলের চাপও রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গতকাল রবিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, একটি বাছাই কমিটি হয়েছে। মামলাগুলো বাছাই করে দেখা হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোনগুলো রাজনৈতিক মামলা আর কোনগুলো রাজনৈতিক মামলা নয়।

আরেক কর্মকর্তা জানান, বেশ কিছুদিন এসব মামলা নিয়ে নাড়াচাড়া ছিল না।

কয়েক দিন ধরে মামলা প্রত্যাহারের জন্য কয়েকটি মামলার আসামিপক্ষের প্রভাবশালীরা বেশ চাপ প্রয়োগ করছে।

এর আগে ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনায়’ শত শত মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে; যেখানে খুনের মামলাও ছিল। ২০১৪ সালে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারসংক্রান্ত জাতীয় কমিটি ১৯৮টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। সেই মামলাগুলোর মধ্যে ৪০টি ছিল হত্যা মামলা। পরে সেগুলো মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। ওই সময় রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সুপারিশে কয়েক হাজার মামলা সম্পূর্ণ ও আংশিক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এর উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হত্যা মামলা। প্রত্যাহারের সুপারিশ করা বাকি মামলার মধ্যে ছিল ধর্ষণ, ঘুষ লেনদেন, সরকারি টাকা আত্মসাৎ, ডাকাতি, অবৈধভাবে অস্ত্র নিজ দখলে রাখা, কালোবাজারি, অপহরণ, জালিয়াতি, বোমা, চুরি ও অস্ত্র মামলা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারও একই কায়দায় পাঁচ হাজার ৮৮৮টি মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং ৯৪৫টি মামলা থেকে কিছু আসামিকে অব্যাহতি দেয়। ওই সময় মোট ৭৩ হাজার ৫৪১ জন আসামি এ প্রক্রিয়ায় বিচার এড়াতে সক্ষম হয়।


মন্তব্য