kalerkantho


ফাঁসির আসামি চাকরিচ্যুত সেনা সার্জেন্ট গ্রেপ্তার

মাগুরা প্রতিনিধি   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ফাঁসির আসামি চাকরিচ্যুত সেনা সার্জেন্ট গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সার্জেন্ট এনামুল কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার সকাল ১১টার দিকে মাগুরা শহরের ভায়না মোড় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এনামুল কবির মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের কাতলী গ্রামের ইমারত হোসেন মোল্যার ছেলে। মাগুরা জেলা জজ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর ও শালিখা থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে শহরের ভায়না বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে এনামুল কবিরকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার ছয় দিন আগে সার্জেন্ট এনামুল সিলেট সেনা দপ্তর থেকে নারায়ণগঞ্জ র‌্যাব-১১-এ যোগ দেন। খুনের পরিকল্পনার সময় তাঁকে টার্গেট ব্যক্তিদের গতিবিধি ও অবস্থান নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তারের পরপরই এনামুল কবিরকে মাগুরা জজ আদালতে আনা হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে ভিড় করে। এ সময় গোটা আদালত এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক মনিরুজ্জামানের কক্ষে গ্রেপ্তারকৃত এনামুল কবিরের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই এনামুল পলাতক ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশের মাধ্যমে সাত খুনের ঘটনায় জড়িত এনামুলের বিষয়ে অবগত হয়ে মাগুরা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য সব সময় তত্পর ছিল। কাজ করছিল সরকারি সর্বস্তরের গোয়েন্দা সংস্থা। গতকাল পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। দুপুরেই এনামুলকে মাগুরার জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক শম্পা বসুর নির্দেশে তাঁকে মাগুরা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় এনামুলকে নারায়ণগঞ্জ পাঠানো হবে।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকায় র‌্যাব সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের গাড়ি থামায়। গাড়ি থেকে নজরুল, তাঁর তিন সহযোগী ও গাড়িচালককে তুলে নিয়ে যায়। ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় অপহরণের ঘটনাটি দেখে ফেলায় আইনজীবী চন্দন সরকার ও তাঁর গাড়িচালককে অপহরণ করা হয়। ওই দিন রাতেই এই সাতজনকে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ৩০ এপ্রিল ছয়জনের এবং ১ মে আরো একজনের লাশ ভেসে ওঠে।

এই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক তারেক সাঈদসহ তিনজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় এবং টাকার বিনিময়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।

সাত খুনের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন প্রধান আসামি করে দুটি মামলা হয়। একটি করেন কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম। অন্যটির বাদী আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর তিন কর্মকর্তা, সদস্যসহ ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১৫ সালে র‌্যাবের চাকরিচ্যুত ২৫ জন কর্মকর্তা, সদস্যসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত। চলতি বছর ১৬ জানুয়ারি বহুল আলোচিত ও নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সাবেক ১৬ কর্মকর্তা ও সদস্যসহ ২৬ জনের ফাঁসির রায় হয়। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয় বাকি ৯ জনের।


মন্তব্য