kalerkantho


সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ই-৯-এর চেয়ারপারসন হলেন শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ই-৯’ ফোরামের একাদশ মন্ত্রী পর্যায়ের পর্যালোচনা সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

ইউনেসকোর ই-৯ ভিত্তিক দেশগুলোর উদ্যোগগুলোকে এসডিজির সঙ্গে সমন্বয় করে এসডিজি-৪-এর মূল লক্ষ্য সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে শিক্ষকতা পেশার জন্য একটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পাশাপাশি করণীয় নির্ধারণে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘ই-৯ মিনিস্ট্রিয়াল মিটিং অন এডুকেশন-২০৩০’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। এই সম্মেলনে ই-৯-এর নতুন চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসডিজি-৪-এর মূল লক্ষ্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা ও জীবনব্যাপী শিক্ষার প্রসার। এসব বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষা মনে রেখে আমি আশাবাদী যে এখানে উপস্থিত শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা এসডিজি-৪ এডুকেশন ২০৩০ লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে নিজ নিজ দেশের আকাঙ্ক্ষা, অঙ্গীকার, প্রাধিকারের বিষয়গুলো আলোচনা করবেন এবং এই ৯টি দেশের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা প্রণয়ন করবেন। ’

বাংলাদেশ এমডিজির বেশির ভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় পর্যায়ে জেন্ডার সমতা অর্জন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় শতভাগ ভর্তি নিশ্চিতকরণ। ’ তিনি বলেন, নতুনভাবে প্রণীত এসডিজি-৪-এ জেন্ডার সমতাকে আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সমতাভিত্তিক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এসডিজি-৪-এ বর্ণিত ফলপ্রসূ শিখন ফলাফল পেতে সহায়তা করবে।

দেশে শিক্ষানীতি প্রণয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সবার সঙ্গে বিশদ আলোচনার মাধ্যমে ২০১০ সালে একটি নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু কৌশলগত নীতি ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি কর্মসূচি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন গোষ্ঠী এবং অন্যান্য পশ্চাত্পদ শিক্ষার্থীর জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ, সামাজিকভাবে অনগ্রসরদের অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যক্তি খাত/বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারি জোরদারকরণ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় অধিকতর সুবিধা নিশ্চিত করতে বৃত্তি কর্মসূচির সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সর্বজনীনতা নিশ্চিতকরণ।

’ তিনি আরো বলেন, যেসব উদ্ভাবনমূলক পদ্ধতি ও উপায় গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে শিখন প্রক্রিয়ায় তথ্য-প্রযুক্তির প্রয়োগ, ইন্টারেক্টিভ ক্লাস, উন্মুক্ত এবং দূর শিক্ষা পদ্ধতির ব্যবহার।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ, সহিংস উগ্রবাদ এবং সশস্ত্র সংঘাত আজকের বিশ্বে মানবাধিকার, শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। উদ্ভাবন, সমঝোতা ও দূরদর্শী নীতির দ্বারা এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এসব বিষয় সামনে রেখে আমরা আমাদের শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা উপকরণ সংস্কার করছি। ’

শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষকতা পেশায় যোগ্য ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পেশার জন্য একটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে নীতিগত উপায় উদ্ভাবন এবং বিশেষ প্রণোদনার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে গতবারের চেয়ারপারসন পাকিস্তানের শিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বালিঘ-উর-রহমান সংগঠনের উন্নয়ন রিপোর্ট উপস্থাপন করেন এবং নতুন চেয়ারপারসন নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে সংগঠনের চেয়ারপারসনশিপ হস্তান্তর করেন।

পর্যালোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী এবং ই-৯ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ই-৯-এর সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন। ’

ই-৯-এর জন্ম ইএফএ সম্মেলনের মাধ্যমে দিল্লিতে ১৯৯৩ সালে। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা অধ্যুষিত ৯টি উন্নয়নশীল দেশের সাধারণ শিক্ষা বিষয়ক লক্ষ্যসমূহ নিয়ে এ সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। এসব দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা জোরদার করার লক্ষ্য সামনে রেখে টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন বৈশ্বিক ‘এডুকেশন ২০৩০’ এজেন্ডার প্রেক্ষাপটে ই-৯ উত্তর-দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। ই-৯-ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ব্রাজিল, চীন, মিসর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তান।

অনুষ্ঠানে ই-৯-এর নতুন চেয়ারপারসন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এবং ইউনেসকোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা বক্তব্য দেন। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য