kalerkantho


জেএমবি-শিবির ছেড়ে উগ্রবাদীরা ভিড়ছে ‘ইসলামী সমাজে’

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ২৪

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



জেএমবি-শিবির ছেড়ে উগ্রবাদীরা ভিড়ছে ‘ইসলামী সমাজে’

জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও ইসলামী ছাত্রশিবির ছেড়ে ‘ইসলামী সমাজ’ নামের একটি কালো তালিকাভুক্ত সংগঠনে ভিড়ছে উগ্র মতবাদে বিশ্বাসী লোকজন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই স্বল্পশিক্ষিত। চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এমন তথ্য পেয়েছে। তারা জানতে পেরেছে, ইসলামী সমাজ নামের এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিল আবদুল জাব্বার নামের একজন জামায়াত নেতা। আর বর্তমানে সংগঠনের আমির পদে থাকা হুমায়ূন কবির একসময় ছাত্রশিবিরের নেতা ছিল।

গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরে অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশ এসব তথ্য পেয়েছে। মহানগরের পাহাড়তলী থানার মৌসুমী আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ২০১১ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় জামাল উদ্দিনের ভাড়া বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শনিবার তাদের বিরুদ্ধে পাহাড়তলী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। জানা গেছে, তাদের হেফাজতে নিয়ে (রিমান্ড) জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নিচ্ছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রুহুল আমিন ইসলামী সমাজের চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছে আর মো. ইউসুপ আলী সংগঠনের টঙ্গী অঞ্চলের প্রধান। সে ২০০৮ সালে জামালপুরে একটি মারামারি মামলার আসামি এবং জেএমবি সদস্য।

২৪ জনের মধ্যে কৃষ্ণানন্দ দে নামের ধর্মান্তরিত একজন মুসলমানও রয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো মো. রুহুল আমিন, মো. ইউসুপ আলী, আমির হোসেন, জামাল উদ্দিন, আবু হানিফ হারিজ, মো. রফিকুল ইসলাম রুবেল, আলমগীর হোসেন, দিদার হোসেন, মো. আনোয়ার, শাহ আলম, রবিউল হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম, মো. আনোয়ার হোসেন, আব্দুল ওহাব, আব্দুর রব, মো. ছাদেক, আবু বক্কর কামাল, আব্দুল কাদের, মো. আকবর হোসেন, ধর্মান্তরিত কৃষ্ণানন্দ দে, মো. ইব্রাহীম খলিল, মোবারক আলী, আব্দুল হাকিম ও মো. রবিউল। তারা চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ভোলা ও রবিশাল জেলার বাসিন্দা।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সীতাকুণ্ড থানা এলাকা থেকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিল, যে ছিল ধর্মান্তরিত মুসলমান। এবার ইসলামী সমাজের কর্মী হিসেবেও একজন ধর্মান্তরিত মুসলমান গ্রেপ্তার হলো। ঠিক কী উদ্দেশ্যে তারা ধর্মান্তরিত হয়ে নিষিদ্ধ কিংবা কালো তালিকাভুক্ত সংগঠনে যোগ দিচ্ছে তা গোয়েন্দা পুলিশকে ভাবাচ্ছে।

ইসলামী সমাজের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ কালের কণ্ঠকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে স্পেশাল টাস্ক গ্রুপ (এসটিজি) অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে সংগঠনের কিছু বুকলেট-লিফলেটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ইসলামী সমাজ নিষিদ্ধ সংগঠন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইসলামী সমাজ নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। তবে কালো তালিকাভুক্ত। কোনো সংগঠন নিষিদ্ধ হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারে না। আর কালো তালিকাভুক্ত সংগঠনের কার্যক্রমের ওপর পুলিশ পর্যবেক্ষণ চালায়। ইসলামী সমাজ গণতন্ত্র, প্রচলিত আইন ও শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। ’

কখন থেকে ইসলামী সমাজকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে জানতে চাইলে পরিতোষ ঘোষ বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৯৯৭ সালে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা হয়। ২০০৯ সালে সরকার সংগঠনটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে। সংগঠনের নেতারা স্বল্পশিক্ষিত লোকদের মগজধোলাই করে তাদের পক্ষে টানছে। শুক্রবার রাতের বৈঠকে তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। ওই বৈঠকে যোগ দিতেই কুমিল্লা ও টঙ্গী থেকে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এসেছিল। আবার কয়েকজন প্রথমবারের মতো বৈঠকে যোগ দিয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় কুমিল্লার রায়পুর কুশিয়ারা এলাকায়। সংগঠনটি উগ্র মতাদর্শী। ইসলামী সমাজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আবদুল জব্বার নামের একজনের নাম জেনেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তি একসময় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। আর সংগঠনের বর্তমান আমির হুমায়ূন কবির ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল।


মন্তব্য