kalerkantho

জো

হাবীবুল্লাহ সিরাজী

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



জো

জো নানা ঠিলায় ঠাঁই নাড়ায়। ভূমি পাইলে সুবিধার কথা বলে, আবার মনিষ্যি হইলে তাহারে ধরিয়া বাতলায় হুকুমের ফরমান।

জানের জান, মওলা মেহেরবান— জো পাওয়া তাই ভার। তয় পাইলে কথা নাই, পয়মন্ত সকল এন্তেজার।

জো। এই নামে পদ্যের একখানা কিতাব বাজারে ছাড়িয়াছি। ইচ্ছা ত’ অনেকই লয়, কিন্তু সাধ্যে কি সকল কুলায়? খামতি মানিয়া লইয়াই বাংলা ভাষার বর্ণমালাগুলি নাড়াচাড়া করিতে চাহিয়াছি। স্বর ও ব্যঞ্জনের অর্ধশত উপকূলে বীজ ফেলিয়া যাহা মিলিয়াছে তাহার সহিত মহাজনদের একটি সম্পর্ক তৈয়ারির প্রচেষ্টা জারি রখিয়াছি। মাইকেল কপোতাক্ষে ভর করিলে লালনেরে বলিয়াছি—দেখান ত’ গড়াইয়ের তেলেসমাতি! বিদ্যাসাগর মহাশয় চটি ফেলিয়া দামোদরে ঝাঁপ দিলে রবিবাবুরে নায়ের গলুইয়ে খাড়াইয়া ধান পাহারা দিতে বলিয়াছি। আবার সুলতানে যদি কুস্তি খাড়ে, খনারে লইয়া ব্যস্ত হইয়াছি লাঙলের ফলায়। জলায় যে উড়াল দেয় কৈতর! রে, রে, গালিব সাবের ফর্দের মইধ্যে বাহাদুর শাহ জাফর ফুচকি দিলে খানখান ভাইঙ্গ্যা পড়ে কিল্লার ইট।

মাবুদ, তুমি জসীমউদ্দীনরে থুইয়া সিরাজীর তন স-রে লইয়া সইন্ধ্যাতারা ফোটাও। এইসব ফৈজতের লগে কৈফতেরও একখানা বয়ান বানাইয়া জুড়িয়া দিয়াছি।

এই কিতাবে বেদম খানাখন্দ আছে। ইচ্ছা লইলেও বুজাই নাই। ফোকর না বিচরাইলে যেমন কাঠ জমে না, তেমন পোকা না ধরিলে আমে মিঠা আসে না। তাই ভুলাইবার যতই চাই, মুলাইবারও ত’ হিম্মত দরকার। অ-রে ঝাঁকাইয়া চন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত পৌঁছাইতে মুরগি-পাঁঠা এক খোঁয়াড়ে জিম্মায় ছিল, আবার মইষ-শুয়ারের চামড়ায় পাটাতন ঢাকনেরও একটা ব্যাপার হুমকি দিয়া গ্যাছে। এরপর আছে মটরশুঁটি-মিহিদানা মাখাইয়্যা মাগুর মাছের কাতরানি। জানি না তাইতে কোন কিসিমের নালী হইল, যারে প্রণালী কওন যায়? বিয়ানে ফকফকা ত’ ব্যালা ভাটিতে যাইতে না যাইতে জো ধরে গায়-গতরে। বতরের আর কত বাকি সিরাজী?

বাহাদুরি ফলানর বহুৎ তরিকা আছে; কিন্তু তাইতে যে এত্তেলা মাঙে, তা ত’ ভাইস্যা যায় গাঙে। এখন ক্যাবল লহমাখানেক চিত-উপুড়, আইট্যা দুপুর; ছুড়ি থুইয়্যা বুড়ি ধরা। স্বরের লগে ব্যঞ্জনেরে জুইড়্যা তামশা বানান। বুলিতে গুলি সান্দ্যাইয়া এক কিসিমের ফুটাফুটি, পদযাত্রায় আউড়্যা জুটি! ভেদের মইধ্যে জেদের মচমচানি। অ-তে অন্তর জ্বালাইয়া চন্দ্রবিন্দুতে তা নেভান দায়!

হিসাব-নিকাশ না করিয়াই জমিতে নামিয়াছিলাম। ভাবিয়াছিলাম জো পাইলে সবই হইবে। ব্যাছন ছিটাইয়া চারার অপেক্ষা; ফুল ফুটাইয়া, ফল ধরাইয়া তবে না গোলায় তোলার সওয়াল! জলের সহিত ভাব করিয়া, মাটির প্রেমে দিওয়ানা হইয়া, বাতাসের গায় ফররা উড়াইয়া, তাপের জিবলায় মাপ মিলাইয়া এই যে পদগুলান বিছাইলাম—তাহার এক্তিয়ারে এখন আমি আর নাই।

যদি আজান দিয়া মামলা দাগাই, ঘণ্টা বাজাইয়া কান ফাঁক করিয়া দেই—তাইতে কোন লাভ নাই। যারার শোনার শব্দ তারার কাছে ঠিক পৌঁছাইবে। জলপাই পাকিলে চক্ষু এড়াইবে না। চোখে ও কানে কোন ভেদ না রাখিয়া জিবলা বাড়াইতে পারেন। তিতা ঠেকিতে পারে, তবে বিষ হইবে না। শতভাগ নিশ্চিত।

কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেছে আবিষ্কার প্রকাশনী, প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ, মূল্য ১২০ টাকা।


মন্তব্য