kalerkantho


সিলেটে টিলাধসে প্রাণহানি

তদন্ত প্রতিবেদনে ৪৭ পাথরখেকো চিহ্নিত

সিলেট অফিস   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



তদন্ত প্রতিবেদনে ৪৭ পাথরখেকো চিহ্নিত

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় টিলা কেটে পাথর উত্তোলনসহ কোটি কোটি টাকার পাথর চুরির সঙ্গে ৪৭ সদস্যের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের ‘যোগসাজশ’ ও ‘রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার’ কারণে পাথরখেকো এই চক্র এত দিন ধরে তাদের অপতত্পরতা নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসছিল।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরফিন টিলার অন্তর্গত মটিয়া টিলাধসে পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদিন প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি।

গত ২৩ জানুয়ারি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মটিয়া টিলা কেটে পাথর উত্তোলনের সময় টিলা ধসে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজন ছয়জন দাবি করলেও পুলিশ সে সময় দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছিল। ঘটনার সপ্তাহ খানেক পর পুলিশ নিশ্চিত হয়, টিলাধসের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত অন্য তিন শ্রমিকের লাশ গোপনে সরিয়ে নিয়ে নেত্রকোনার বিভিন্ন স্থানে দাফন করা হয়। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে পুলিশ সেসব লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে।

টিলাধসে প্রাণহানির এ ঘটনায় সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াত মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলামকে প্রধান করে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়।

তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শেষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রশাসনের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, তদন্ত প্রতিবেদনে টিলা কেটে পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চক্রটির এই অপতত্পরতা রোধে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে অধিকতর তদন্তের সুপারিশও এসেছে প্রতিবেদনটিতে।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াত মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলামকে জানান, ১১৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে এ টিলা ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শাহ আরফিন খানকা শরিফের খাদেম ও ইজারাদার আঞ্জু মিয়া এ টিলা ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আঞ্জু মিয়া ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে মাত্র ২৫ একর ভূমি ইজারা নেন। ২০০৪ সালে তিনি ইজারা বাবদ কিছু অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেন। কিন্তু তিনি ও তাঁর সহযোগীরা পুরো টিলার ১৩৭ একর ভূমি ভোগ করেছে। এর মাধ্যমে তারা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ঘটনা ঘটলেও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাছুম বিল্লাহ ও ওসি বায়েস আলম দুপুর সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থলে যান। এ ঘটনায় পরদিন কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হলেও ইজারাদার আঞ্জু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইজারাদার ২৩ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে পরদিন বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নগরের তালতলায় গুলশান হোটেলে অবস্থান করেন। এ ছাড়া ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত নগরের সোবহানীঘাটসহ আরো কিছু এলাকায় অবস্থান করেন তিনি। এর পরও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি।

গত চার বছরে টিলাধসে অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানি হলেও এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় কোনো রেকর্ড নেই বলে প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইউএনও ও ওসির কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে।


মন্তব্য