kalerkantho


অভিবাসননীতি

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা সাময়িক স্থগিত করল আদালত

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা সাময়িক স্থগিত করল আদালত

মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিয়েছেন দেশটির একটি কেন্দ্রীয় আদালত। স্থানীয় সময় শুক্রবার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলের ফেডারেল বিচারক জেমস রবার্ট এই স্থগিতাদেশ দেন।

এর আগেও বেশ কয়েকটি আদালত ট্রাম্পের ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। তবে সিয়াটল আদালতের স্থগিতাদেশই প্রথম, যা দেশজুড়ে কার্যকর হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এখতিয়ার নেই যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সরকারের। এ প্রেক্ষাপটে সরকারি আইনজীবীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক জেমস রবার্ট ওই স্থগিতাদেশ দেন। এতে মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে জারি করা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটিকে অসাংবিধানিক বলে রুল জারি করেন বিচারক।

এদিকে আদালতের স্থগিতাদেশ উল্টে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিয়াটলের ফেডারেল বিচারক জেমস রবার্টকে ‘তথাকথিত’ বিচারক বলে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, তাঁর (বিচারক) ‘হাস্যকর’ মতামত ‘আইনের প্রয়োগকে’ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘দূরে সরিয়ে দিচ্ছে’।

সিয়াটল আদালতের সর্বশেষ স্থগিতাদেশের পর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিষয়ক সংস্থা (সিবিপি) বিমান সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে, তারা যেন ওই সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে উঠতে দেয়। কাতার এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, খবর পাওয়া মাত্র তারা ওই সব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী যাত্রীদের বিমানে ওঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এখন ওই আদেশের ওপর জরুরি স্থগিতাদেশ জারির পরিকল্পনা করছে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের আদেশকে ‘আইনগত ও সঠিক’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘জন্মভূমির সুরক্ষায় প্রেসিডেন্ট ওই আদেশ দিয়েছেন। আমেরিকার জনগণকে রক্ষায় সাংবিধানিকভাবে (যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের) অধিকার তাঁর রয়েছে এবং এ জন্য তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত। ’

যুক্তরাষ্ট্রমুখী অভিবাসন সীমিত করতে ২৭ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। ওই আদেশে আগামী চার মাস যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শরণার্থী প্রবেশের সুযোগ না পাওয়ার কথা বলা হয়। আর সিরিয়ার শরণার্থীদের জন্য পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই আদেশ কার্যকর থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

সেই সঙ্গে আগামী ৯০ দিন মুসলিম অধ্যুষিত সাত দেশ ইরাক, ইরান, সিরিয়া, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এসব দেশের দ্বৈত নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া (গ্রিন কার্ড হোল্ডার) ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ওই আদেশ কার্যকর হবে বলে বলা হয়েছিল।

ট্রাম্পের ওই আদেশের পর তীব্র সমালোচনা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্দোলন, বিমানবন্দরগুলোতে ব্যাপক ভুল-বোঝাবুঝি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে সংকটের সৃষ্টি হয়। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জারির পরের দিনই ওয়াশিংটনের একটি আদালত ওই আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার এবং নিষিদ্ধ সাত দেশের নাগরিকদের বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো বন্ধের নির্দেশ দেন। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সরকারও ট্রাম্পের আদেশে অস্থায়ী স্থগিতাদেশ দিতে যাচ্ছে।

এ ছাড়া ওয়াশিংটনের স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল বব ফার্গুসন ট্রাম্পের ওই আদেশকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে বর্ণনা করেন। তিনি মনে করেন, ওই আদেশে ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভেদ করা হয়েছে।

আরো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলও ট্রাম্পের আদেশকে অসাংবিধানিক বলে বর্ণনা করেছেন। কয়েকজন ফেডারেল জজ যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ ভিসা থাকা ব্যক্তিদের বিতাড়ন আটকাতে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে ভার্জিনিয়া, নিউ ইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানে মামলার শুনানি চলছে।


মন্তব্য