kalerkantho


ট্রাম্পের সমালোচনায় শান্তিতে নোবেলজয়ীরা

ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত প্রধান জন স্মিথ গতকাল শুক্রবার ইরানের ১৩ জন নাগরিক ও এক ডজন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। গত রবিবার ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পর দেশটির ওপর প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটি সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন ও চীনভিত্তিক। ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্যরাও এর আওতায় আছেন।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে লেখেন, ‘ইরান আগুন নিয়ে খেলছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা তাদের প্রতি কতটা দয়ালু ছিলেন তা তারা উপলব্ধি করতে পারেনি। আমি তেমনটি নই!’

এর জবাবে ইরান এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তি’র কাছ থেকে ‘অনর্থক’ আমেরিকান হুমকিতে তারা নতি স্বীকার করবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসননীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন একদল নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী। তাঁরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিদেশভীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ এনেছেন। গত বৃহস্পতিবার কলম্বিয়ার রাজধানী বগোটায় শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁরা এই সমালোচনা করেন। সম্মেলনে প্রায় ৩০ জন নোবেল বিজয়ী অংশ নিয়েছেন।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে ট্রাম্প ১২০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ৯০ দিনের জন্য সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশ—ইরাক, ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সন্ত্রাসী হামলা থেকে নিজের দেশকে বাঁচাতে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। এর পর থেকে বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা চলছে।

এই সমালোচকদের মধ্যে এবার যোগ দিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ীরা। বৃহস্পতিবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান বলেন, ‘শান্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার লাভ করার জন্য আমাদের লড়াই করতে হবে। আমরা সহিংসতা ও বর্ণবাদ নিয়ে এই আলোচনার সমাপ্তি চাই। ’ ২০১১ সালে নারী অধিকার নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই ইয়েমেনি নারী সাংবাদিক শান্তিতে নোবেল পান। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মুসলমান ভিন্ন ধর্মের বিশ্বাসী বলে আমরা তাদের আলাদা করতে পারি না, মিস্টার ট্রাম্প। ’

সম্মেলনে নোবেল বিজয়ী কোস্টারিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট অস্কার অ্যারিয়াস বলেন, ‘এটি একটি মারাত্মক অবিশ্বাস। আমরা দেখছি, দুনিয়ার সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের নেতা কিভাবে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করতে পারেন। ’ মধ্য আফ্রিকার চারটি দেশের গৃহযুদ্ধ বন্ধে কাজ করার জন্য ১৯৮৭ সালে অ্যারিয়াসকে নোবেল দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশভীতি ও ঘৃণা বাড়তে দেখে তিনি উদ্বিগ্ন।

২০০৩ সালের শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইরানি আইনজীবী শিরিন এবাদি তাঁর দেশের লোকজনকে ‘সন্ত্রাসী’ বলায় ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী আরেক নারী যুক্তরাষ্ট্রের স্থলমাইনবিরোধী রাজনীতিক জডি উইলিয়ামস তাঁর দেশের প্রেসিডেন্টের সরাসরি সমালোচনা করে বলেন, ‘ট্রাম্প হলেন বর্ণবাদী ও লিঙ্গবৈষম্যবাদী (সেক্সিস্ট)। ’

সম্মেলনে সর্বশেষ নোবেল বিজয়ী কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসও বক্তব্য দেন। তিনি তাঁর ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ করেননি। মার্কসবাদী বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করার জন্য ২০১৬ সালের এই নোবেল বিজয়ী তাঁর ভাষণে বলেন, সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধ, বৈষম্য ও শরণার্থী বিষয়গুলো নিয়ে চলমান বাগাম্বড়পূর্ণ বক্তব্য পরিবর্তন করা উচিত।

ট্রাম্পের সমালোচনায় যুক্ত হন নোবেল বিজয়ী ভারতের কৈলাশ সত্যার্থীসহ আরো কয়েকজন নোবেল বিজয়ী। সম্মেলনের ফাঁকে আলাদা একটি অনুষ্ঠানে কৈলাশ সত্যার্থী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নথিভুক্তহীন শিশুদের অধিকার রক্ষা করতে ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বিতাড়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁর (ট্রাম্প) কাছে আশা করি, কামনা করি এবং অনুরোধ করি যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তথাকথিত অবৈধ অভিবাসী শিশুদের যেকোনো পরিস্থিতিতে নিরাপদ রাখা হবে। শিশুরা বিশ্বের কোথাও, কারো জন্যই বিপজ্জনক নয়। বরং তাদের সুরক্ষা একটি অধিকতর উন্নত বিশ্ব নির্মাণে সহায়ক হবে। ’

কৈলাশ সত্যার্থী ২০১৪ সালে পাকিস্তানি স্কুল ছাত্রী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান। শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য তিনি নোবেল পান। কৈলাশ আরো বলেন, ‘আমেরিকার সাফল্যে গল্প নির্মিত হয়েছে সেই সব মানুষের দ্বারা, যাঁরা বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে এসেছেন। আমি মনে করি, এই ইতিহাস মনে থাকবে। ’ সূত্র : রয়টার্স।


মন্তব্য