kalerkantho


গুজব রটিয়ে গ্রাম লুট

শফিক আদনান, কিশোরগঞ্জ   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গুজব রটিয়ে গ্রাম লুট

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে চরদেহুন্দা গ্রামে লুটপাটের শিকার একটি পরিবার। ছবি : কালের কণ্ঠ

গুজব রটিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের চরদেহুন্দা গ্রামের অন্তত ২০টি বাড়িতে লুটপাট চালানো হয়েছে। গরু-বাছুর, হাঁড়িপাতিল, স্বর্ণালংকার, আসবাব, ধান-চাল, নগদ অর্থ, এমনকি কাপড়চোপড়ও নিয়ে গেছে পাশের গ্রামের লোকজন। নির্বিচারে বাড়িতে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। রাতেই ওই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলাকারীরা পাশের তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের জটারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, চরদেহুন্দা গ্রামের মো. সোহরাব উদ্দিনের সঙ্গে জটারকান্দা গ্রামের সঞ্জু মিয়া, দুলাল ও ফজলুর রহমানের বিরোধ চলছিল। মাসখানেক আগে সোহরাবের খামারের মাছ লুট করে সঞ্জু ও দুলাল মিয়ারা। এ নিয়ে তাড়াইল থানায় মামলা করায় গত মঙ্গলবার সোহরাবের কলেজপড়ুয়া ছেলেকে মারধর করা হয়। বর্তমানে সে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায়ও মামলা হয় করিমগঞ্জ থানায়। এসব কারণে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে জটারকান্দার পাঁচ-সাতজন দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চরদেহুন্দা গ্রামে গিয়ে হামলা চালায়। এতে সোহরাবের ভাতিজা, ছোট ভাইসহ কয়েকজন আহত হয়। প্রতিপক্ষের দুলাল মিয়াও এ ঘটনায় আহত হন।

রাত ৮টার দিকে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়, দুলাল মারা গেছেন। এরপর রাত ৯টার দিকে জটারকান্দার সঞ্জু ও ফজলু মিয়ার নেতৃত্বে শতাধিক লোক দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে একে সোহরাব হোসেন ও তাঁর আত্মীয়স্বজনদের বাড়িঘরে চড়াও হয়।

চরদেহুন্দা গ্রামের আয়শা আক্তার জানান, রাতে তিনি চার মেয়ে ও বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে খেতে বসেছিলেন। এমন সময় শতাধিক লোক রামদা, বল্লম দিয়ে বেড়া কেটে ঘরে ঢুকে সব কিছু ভেঙে ফেলে এবং টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নিয়ে যায়। তাদের হাতে-পায়ে ধরেও কোনো লাভ হয়নি।

সোহরাব হোসেনের ভাইয়ের স্ত্রী রহিমা জানান, তিনি দুই বছরের নাতিকে নিয়ে ঘরে ছিলেন। হামলা শুরু হলে তিনি নাতিকে নিয়ে দৌড়ে পাশের এক ঝোঁপে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন। জ্যোত্স্না বেগম নামের একজন জানান, তাঁর ঘরের সব কিছু লুট হয়ে গেছে। আরিফা নামের এক গৃহবধূ জানান, তাঁদের পাকা ঘরের দরজা শাবল দিয়ে ভেঙে হামলাকারীরা স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এভাবে একে একে বিভিন্ন বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়।

গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে চরদেহুন্দা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় সেখানে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন করিমগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খান দিদার ও দেহুন্দা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সনজু।

করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছমা আরা বেগম জানান, তিনি হামলার কথা শুনেছেন। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলেছেন।

সোহরাব হোসেন অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁর আত্মীয়স্বজনের ২০টি ঘরে হামলা চালিয়ে তছনছ করেছে। লুটে নিয়েছে ১৫টি গরু, দুটি শ্যালো মেশিন, পাঁচটি ফ্রিজ, ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা ও আসবাব। সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির রব্বানী এ ঘটনাকে নারকীয় আখ্যা দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। হামলাকারীদের ধরতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।


মন্তব্য