kalerkantho


আইসিসিবিতে প্রদর্শনী শুরু

বাংলাদেশ-ভারতের গাড়ির দুনিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশ-ভারতের গাড়ির দুনিয়া

বাংলাদেশ ও ভারতের অটোমোবাইল ও উপকরণ নিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হলো গাড়ির প্রদর্শনী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ‘ইন্দো-বাংলা অটোমোটিভ শো-২০১৭’ নামে এ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

গতকাল সকালে ফিতা কেটে তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের গাড়ি প্রস্তুত, বাজারজাতকারী ১৪টি প্রতিষ্ঠান এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে। ভারতের বড় বড় কম্পানি এ মেলায় অংশ নিচ্ছে। এতে প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, পিকআপ, ট্রাক্টর, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি প্রদর্শন করা হচ্ছে। গতকাল প্রদর্শনী শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন কম্পানির বিভিন্ন মডেলের ও রঙের গাড়ি কিনতে ও দেখতে ক্রেতারা ভিড় করেন।

ভারতের বিভিন্ন কম্পানির কাছ থেকে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশও দ্রুত নিজেই বাস ও ট্রাকের মতো গাড়ি তৈরি করতে পারবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশি শিল্প উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে নেপালে মোটরসাইকেল রপ্তানি শুরু হয়েছে। সাভারে শুরু হয়েছে গাড়ির বডি তৈরির কারখানার কার্যক্রম।

সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফেকচারার্স (সিয়াম) প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। আয়োজক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে প্রদর্শনী।

আইসিসিবির সেমিনার হলে গতকাল সকাল ১১টায় প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রী প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে এর সাফল্য কামনা করেন। পরে টাটা মোটরস, উত্তরা মোটরসসহ বিভিন্ন অটোমোবাইল কম্পানির প্যাভেলিয়ন পরিদর্শন করেন। তখন মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন উভয় দেশের গাড়ি খাতের উদ্যোক্তারা।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, অটোমোবাইল খাতে বহু অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে এই খাতের মাধ্যমে আরো উন্নয়ন করতে পারে। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দুই দেশই উপকৃত হবে ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত তৈরি হবে। ভারতের বেশ কিছু কম্পানি এখানে অটোমোবাইল কারখানা স্থাপন করেছে। আরো কিছু কারখানা স্থাপন প্রক্রিয়াধীন।

অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা এমন নীতিমালা তৈরি করছি যাতে দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা শুধু অ্যাসেম্বলিং নয়, ম্যানুফেকচার করতে পারবেন। ভবিষ্যতে আমরা নিজেরাই আমাদের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরে অটোমোবাইল রপ্তানি করতে পারব। ’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ, দ্য সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্সের প্রেসিডেন্ট ভিনোদ কে দাশারি।

প্রদর্শনীতে অশোক লে-ল্যান্ড, বাজাজ অটো, নিলয় মোটরস, নিটল মোটরস, রেনকন মোটরস, র্যাংগস মোটরস, উত্তরা মোটরস, রানার মোটরস, টিভিএস অটো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্যাভেলিয়নে রয়েছে নজরকাড়া সব গাড়ি।

প্রদর্শনীতে আরো অংশ নিয়েছে আইচার ট্রাকস অ্যান্ড বাসেস, হিরো মোটর করপোরেশন, হোন্ডা মোটরসাইকেলস, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, মারুতি সুজুকি, রানার অটোমোবাইলস, এসএমএল ইসুজু, টাটা মোটরস, টিভিএস মোটরস, ইয়ামাহা, এসিআই মোটরস, ইফাদ মোটরস, বাংলাদেশ হোন্ডার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

ইয়ামাহা, টিভিএস, বাজাজ, হিরো, রানারসহ মোটরসাইকেল নির্মাতারা বেশ কিছু নতুন মডেল নিয়ে এসেছে প্রদর্শনীতে। এগুলো বিশেষ মূল্য ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে বলে পরিবেশকরা জানিয়েছেন। গত বছর ভারতের বাজারে আসা ইয়ামাহা ভার্সন-২ প্রদর্শনীতে পাওয়া যাবে। বিভিন্ন কম্পানির মোটরসাইকেলে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

অটোমোবাইল খাতের স্বনামধন্য মোটরসাইকেল আমদানিকারক, প্রস্তুতকারী, সংযোজন ও বাজারজাতকারী উত্তর মোটরস লিমিটেড বাংলাদেশে চাহিদার ৫০ শতাংশ মোটরসাইকেলের যোগান দিয়ে থাকে। উত্তরা গ্রুপের অন্যতম এ প্রতিষ্ঠান দেশে বাজাজ মোটরসাইকেল বাজারজাত করছে চার দশক ধরে। প্রদর্শনীতে গতকাল বাজাজ অ্যাডভেঞ্জার ১৫০ মোটরসাইকেলের উদ্বোধন করা হয়।

টাটা মোটরস উল্লেখ করার মতো বাণিজ্যিক গাড়ি প্রদর্শনীতে যোগ করেছে। দেশে বাণিজ্যিক গাড়ির মোট চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি যোগান দিয়ে আসছে ভারতের এ প্রতিষ্ঠানটি। টাটা মোটরস হালকা, মধ্যম ও ভারী শ্রেণির ১১টি নতুন গাড়ি প্রদর্শনীতে এনেছে।

টাটা মোটরস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক রবি পিসারদীর মতে, প্রদর্শনীতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গাড়ি প্রদর্শন করতে পেরে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গর্বিত। প্রদর্শনীতে তাঁদের উপস্থিতি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার পরিচায়ক শুধু নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি টাটার দৃঢ় প্রত্যয়ের পরিচায়কও।

নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মাতলুব আহমাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারত, এমনকি ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ যদি গাড়ি প্রস্তুত করতে পারে এবং তা রপ্তানি করতে পারে তাহলে আমরা তা করতে পারব না কেন?’ তিনি বলেন, ‘রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি করে আর কত দিন চলতে হবে। দেশে গাড়ি তৈরি করতে পারলে খরচও কম পড়বে। এ প্রদর্শনীতে ভারতের বিভিন্ন কম্পানির কাছ থেকে আমাদের দেশীয় উদ্যোক্তা ও কারিগররা অভিজ্ঞতা নেবেন। ’

প্রদর্শনী আয়োজনে সহযোগিতায় রয়েছে ভারতের ভারী শিল্প মন্ত্রণালয়, ভারতীয় হাইকমিশন, অটোমোটিভ কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এসিএমএ), ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই), ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই), বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএএএমএ), বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএএমএ)।


মন্তব্য