kalerkantho


জিয়া অরফানেজ মামলা

খালেদার অনাস্থা এজলাসে তুমুল হট্টগোল

আদালত প্রতিবেদক   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



খালেদার অনাস্থা এজলাসে তুমুল হট্টগোল

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পুনঃ তদন্তের আবেদন নাকচ হওয়ায় বিচারকের প্রতি অনাস্থা এনেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মামলার পুনঃ তদন্ত চেয়ে খালেদা জিয়ার দুটি আবেদন আদালত খারিজ করে দিলে এই অনাস্থা আনা হয়।

এ নিয়ে দিনভর হট্টগোল চলে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত আদালত অনাস্থা ও পুনঃ তদন্তের আরজি খারিজ করে দিয়ে শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজারে ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের অতিরিক্ত এজলাসে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা দুটির বিচারকাজ একসঙ্গে চলছে। দুই মামলায়ই গতকাল খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির জন্য পূর্বনির্ধারিত দিন ধার্য ছিল।

সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে খালেদা আদালতের এজলাসে পৌঁছেন। প্রথমে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পুনঃ তদন্ত চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের করা আবেদনের ওপর অবশিষ্ট শুনানি গ্রহণ করেন। ঘণ্টাদেড়েক ওই আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক ওই আবেদন নাকচ করে দেন। দুপুরের বিরতির আগে আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আবেদন করেন খালেদার আইনজীবীরা। বিরতির পর বিচারক এজলাসে উঠে অনাস্থা আবেদনটি নাকচ করেন।

আদেশে বিচারক বলেন, এ মামলার অভিযোগ গঠন হয়েছে প্রায় তিন বছর হতে চলল। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইন অনুযায়ী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়। মামলার শেষ পর্যায়ে এসে এ ধরনের আবেদনের সুযোগ নেই। তাই আবেদন নামঞ্জুর এবং মুলতবি করার আবেদন নাকচ করা হলো।

এরপর মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিটের ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য পড়ে শোনাতে থাকেন। খালেদার আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন। তাঁরা এজলাসে তুমুল হৈচৈ শুরু করেন। এরই মধ্যে বিচারক সাক্ষীদের সাক্ষ্য পড়ে শোনানোর পর আদালত খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চান তিনি দোষী না নির্দোষ।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘হৈচৈয়ের কারণে আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। এ ছাড়া আমার আইনজীবীরা আপনার প্রতি অনাস্থা দিয়েছেন। আমিও আনুষ্ঠানিকভাবে আপনার প্রতি অনাস্থা দিলাম। আপনি জোর করে আত্মপক্ষ সমর্থন করছেন। তা মোটেও যুক্তিসংগত নয়। ’

আদালতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হৈচৈ চলতে থাকে। পরে আদালত পরবর্তী দিন ধার্য করেন। পরের তারিখে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামি শরফুদ্দিন আহমেদসহ অন্য চারজনের সাফাই সাক্ষী দেওয়ার দিন ধার্য করেন। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে আদালত এই নির্দেশ দিয়ে দিনের কার্যক্রম শেষ করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ২৬ জানুয়ারি মামলার আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অন্য দুই আসামি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেদের বক্তব্য পেশ করেন। তাঁরা জামিনে আছেন। আদালতেও হাজির ছিলেন।

এ ছাড়া সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে। ওই আবেদন শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি রাখার আবেদন করা হয়। এ আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

এ মামলায় খালেদা ছাড়া অন্য আসামিদের মধ্যে বিআইডাব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আদালতে হাজির ছিলেন। আরেক আসামি চারদলীয় জোট সরকার আমলে খালেদার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী প্রথম থেকেই পলাতক। খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, এ জে মোহাম্মদ আলী, সানাউল্লাহ মিয়া, নুরুজ্জামান তপন প্রমুখ শুনানিতে অংশ নেন।

খালেদার আইনজীবীরা দাবি করেন, অনাস্থা প্রকাশ করার পর হৈচৈ করার কারণে বিচারকের বক্তব্য শুনতে পাননি তিনি (খালেদা)। তাই সাক্ষীদের বক্তব্য পড়ে শোনানোর পর্ব শেষ হয়নি।

অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের দাবি, বিচারক খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চেয়েছেন তিনি দোষী না নির্দোষ, তিনি কোনো সাফাই সাক্ষী দেবেন কি না। জবাবে খালেদা বলেছেন, তিনি এখন কোনো বক্তব্য দেবেন না। তার মানে তিনি বিচারকের বক্তব্য শুনেছেন। অর্থাৎ ৩৪২ ধারায় আসামিকে পরীক্ষা করা হয়ে গেছে। পরের তারিখে তিনি (খালেদা জিয়া) আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেবেন।

শুনানিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবীর রিজভী, ফজলুল করিম মিলনসহ একাধিক নেতা আদালতের এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুদক। আর চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে আসা তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক।


মন্তব্য