kalerkantho

লেখকের সেরা বই

অগ্নিকন্যা

মোস্তফা কামাল

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অগ্নিকন্যা

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। আলোর মুখ দেখল ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস ‘অগ্নিকন্যা’। এবার একুশে বইমেলায় বইটি প্রকাশ করেছে পার্ল পাবলিকেশন্স। আর এর মধ্য দিয়ে আমার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নও পূরণ হলো।

আড়াই দশক আগে লেখালেখির শুরু থেকেই ভাবতাম, একটা বড় কাজ করব। সেই থেকে প্রস্তুতি চলছিল। দেশভাগ এবং এর পরবর্তী পেক্ষাপটের ওপর যেসব বই প্রকাশিত হয়েছে তা সংগ্রহ করে পড়তে থাকি। পড়ি আর নিজের ভেতরে আত্মস্থ করতে থাকি ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ।

আমি জানি, ঝরঝরে গতিশীল ভাষা ছাড়া এ ধরনের উপন্যাস পাঠকপ্রিয়তা পায় না। পাঠককে ভেতরে ঢোকানো যায় না। আবার ঐতিহাসিক ঘটনা ও চরিত্রগুলো তুলে ধরতে মনগড়া কোনো তথ্যও দেওয়া যাবে না। ফলে কাজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ; একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণও। এর পরও অদম্য সাহস আর ইচ্ছাশক্তির বলে প্রস্তুতি চলছিল। এরই অংশ হিসেবে বারবার নিজেকে ভাঙি, আবার গড়ি। এভাবে চলতে থাকে অনেক বছর। এ সময়কালে সাহিত্যের নানা অঙ্গনে বিচরণ করেছি। এর বাইরে আর কিছুই ভাবতে পারিনি। আসলে আমার সমস্ত ধ্যান-জ্ঞান হচ্ছে লেখালেখি, সাংবাদিকতা। সৃষ্টিশীল কাজের মধ্যে ডুবে থাকা।

আমার কাছে নতুন বছর আসে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। নতুন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন আঙ্গিক ও বিষয়বৈচিত্র্যের গল্প-উপন্যাস লেখা হয়। কিন্তু বড় কাজটিই যেন হয়ে ওঠে না। এর পরও কিছু উপন্যাস পাঠকমহলে সাড়া ফেলে। ‘জননী’, ‘হ্যালো কর্নেল’, ‘জনক জননীর গল্প’, ‘বারুদপোড়া সন্ধ্যা’, ‘জিনাত সুন্দরী ও মন্ত্রী কাহিনী’ বিপুল পাঠকের দৃষ্টি কাড়ে। তাঁরা আমাকে সাদরে গ্রহণ করেন। তবে ‘জননী’ আমাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, জননী আমার একটি বড় কাজ। জননীকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো কাজ করতে চেয়েছি। আমার মনে হয় তাতে আমি সফল হতে পেরেছি।

আমার সুদীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল হচ্ছে ‘অগ্নিকন্যা’। ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস। অগ্নিকন্যা এর প্রতীকী নাম। এর সময়কাল হচ্ছে দেশভাগ থেকে ছয় দফা।

পূর্ব বাংলার তুমুল জনপ্রিয় নেতা শেরেবাংলা পাকিস্তানের প্রস্তাবক হয়েও জিন্নাহ সাহেবের কূটকৌশলে হয়ে গেলেন ‘দুশমন’। পাকিস্তান আন্দোলনের অন্য শীর্ষ নেতা সোহরাওয়ার্দী সাহেবকেও দেশভাগের আগে আগেই সরিয়ে দেওয়া হলো। কপাল খুলল জিন্নাহ-লিয়াকত খাঁর প্রিয়ভাজন খাজা নাজিমুদ্দিনের।

উচ্চাকাঙ্ক্ষী জিন্নাহ দেশভাগের প্রাক্কালে পাকিস্তানের হিস্যা আদায়ের চেয়ে বড়লাট হওয়ার ব্যাপারেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। এটাই পাকিস্তানের জন্য কাল হলো। লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলল পাকিস্তান।

তাতেও জিন্নাহ সাহেবের খায়েশ মিটল না। তিনি নিজে উর্দুভাষী নন। অথচ খাজা সাহেবের পরামর্শে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে মরিয়া হয়ে উঠলেন। আর তাতে ফুঁসে উঠল বাঙালি। রাস্তায় নামলেন শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী, শেখ মুজিবসহ আরো অনেকে।

রক্তের বিনিময়ে ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠিত হলো। আর এতে শোষণ-নিপীড়ন আরো বেড়ে গেল। চুয়ান্ন সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ কিছুতেই মেনে নিতে পারল না। শুরু হলো গোলাম মোহাম্মদ-ইস্কান্দার মির্জাদের ষড়যন্ত্র। তাঁরাও অবশ্য দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের কাছে পরাস্ত হলেন। বন্দি হলো রাজনীতি।

কারাগারে বসে শোষিত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য শেখ মুজিব আঁকলেন ছয় দফার ছক।

এ ছাড়া আরো তিনটি বই এবার বইমেলায় বেরিয়েছে। প্রেমের উপন্যাস ‘রূপবতী’ এনেছে অন্যপ্রকাশ। কিশোর গোয়েন্দা উপন্যাস ‘প্রিন্স উইলিয়ামের আংটির খোঁজে’ এবং রম্যরচনা ‘কিছু হাসি কিছু রম্য’ প্রকাশ করেছে অনন্যা।


মন্তব্য