kalerkantho

26th march banner

আজ গন্তব্য হোক মেলা

নওশাদ জামিল

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আজ গন্তব্য হোক মেলা

হাতুড়ি-পেরেকের ঠোকাঠুকি শেষ। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সব স্টলেই বই সাজানোর কাজও সম্পন্ন। প্রথম দিনে মেলা ছিল খানিক অগোছালো। গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে অমর একুশে গ্রন্থমেলার পরিবেশ ছিল পরিপাটি। আজ শুক্রবার বইমেলার প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিন। মেলার দ্বার খুলবে সকাল ১১টায়। প্রকাশকরা স্টল সাজিয়ে তৈরি। প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন বইয়ের পসরা। ছুটির দিনে তাই চিরচেনা ভিড় প্রত্যাশা করছেন লেখক-প্রকাশকরা। তাঁদের আশা—ছুটির দিনে আজ সবার গন্তব্য হয়ে উঠবে বইমেলা প্রাঙ্গণ, প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হবে মেলার আবহ। এ ছাড়া আজ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলায় শিশুপ্রহর। এ সময় শিশু-কিশোরদের স্টলগুলো জমে উঠবে শিশুদের আনন্দমুখরতায়।

গতকাল বইমেলার দ্বিতীয় দিনে দুই প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, গ্রন্থানুরাগীদের উপস্থিতি মন্দ নয়। তবে বিক্রিবাট্টা জমেনি। এখন মেলায় যারা আসছে, তাদের প্রধান উদ্দেশ্য বিকেল-সন্ধ্যায় মেলার পরিবেশ উপভোগ করা। ঘুরতে-ফিরতে স্টলগুলোর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দু-একটি বই পাতা উল্টে চোখ বুলিয়ে দেখা। প্রিয় লেখকদের কার কী বই আসছে তার সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া আর কি! প্রকাশকরা আশা করছেন, আজ থেকেই পুরোদমে শুরু হবে বেচাকেনা।

আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন : গতকাল ছিল আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন। সকালে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আমন্ত্রিত বিদেশি লেখকদের বক্তব্য প্রদান ও কবিতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন মেনফ্রেড কোবো (অস্ট্রিয়া), ইওনা বুরঘার্ট ও টোবিয়াস বুরঘার্ট (জার্মানি), লুস মারিয়া লোপেজ ও মারিয়া ডি লোস অ্যানজেলেস কামাকো রিভাস (পুয়ের্তোরিকো), ভিক্টর আলেক্সান্ড্রোভিচ পোগাদাইভ (রাশিয়া), ডং ইউ চেন (চীন)। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ফকরুল আলম।

দ্বিতীয় অধিবেশনে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে দুপুর ১২টায় আমন্ত্রিত বিদেশি কবি-লেখকদের সঙ্গে বাংলাদেশের কবি-লেখকদের মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন মেনফ্রেড কোবো (অস্ট্রিয়া), ইওনা বুরঘার্ট ও টোবিয়াস বুরঘার্ট (জার্মানি), লুস মারিয়া লোপেজ ও মারিয়া ডি লোস অ্যানজেলেস কামাকো রিভাস (পুয়ের্তোরিকো), ভিক্টর আলেক্সান্ড্রোভিচ পোগাদাইভ (রাশিয়া), ডং ইউ চেন (চীন) এবং বাংলাদেশের মুহম্মদ নূরুল হুদা, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, মিজারুল কায়েস, শামীম আজাদ, আমিনুর রহমান, সুমন রহমান ও রাশিদ আসকারী। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কায়সার হক। অধিবেশনে অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের কবি-লেখকরা বলেন, ভাষার ভিন্নতা মানব-অনুভবের সর্বজনীন ঐক্যের মাঝে কোনো বিভাজনের দেয়াল তুলতে পারে না। সাহিত্য বিশ্বব্যাপী মানুষে মানুষে হৃদয়সেতু বিনির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে।

দ্বিতীয় পর্বে ছিল আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন লেখক সম্মাননা ২০১৭ প্রদান। বিকেল ৩টায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে সম্মাননা প্রদান করা হয় জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক, ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে। সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে জীবনব্যাপী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের পুষ্পস্তবক, সম্মাননাসূচক ক্রেস্ট ও উত্তরীয় অর্পণ করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অসুস্থতার কারণে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের অনুপস্থিতিতে আনন্দ জামান তাঁর বাবার পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন। সম্মাননা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার।

সম্মাননা প্রদান করে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘এই ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি আমাদের ভাষা-সাহিত্য ও দেশ-জাতির গর্ব। বাংলা একাডেমি একুশের অনুষ্ঠানমালার শুরুতে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে তাঁদের সম্মাননা প্রদান করে এই বিরল গুণীদের কাছে আমাদের সামষ্টিক ঋণ স্বীকার করল মাত্র। ’ 

পরে বিকেল সাড়ে ৩টায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলা কথাসাহিত্য’ শীর্ষক সেমিনার। এতে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের কথাসাহিত্য বিষয়ে তিনটি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, পশ্চিমবঙ্গের কথাসাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী ও অমর মিত্র। আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, পারভেজ হোসেন, আনিসুল হক ও জাকির তালুকদার। সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের কথাসাহিত্য স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে মানুষের অধিকার ও স্বপ্নের সীমানা সংরক্ষণের বিষয়ে অভূতপূর্ব ঐক্যের অধিকারী।

শেষ পর্ব সন্ধ্যা ৭টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলা ভাষার স্বরচিত কবিতা পাঠ’। এ পর্বে কবিতা পাঠে অংশ নেন বাংলাদেশ ও ভারতের  কবিরা। সভাপতিত্ব করেন কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

নতুন বই : গ্রন্থমেলার দ্বিতীয় দিনে মেলায় এসেছে অর্ধশতাধিক নতুন বই। তবে বাংলা একাডেমি তথ্যকেন্দ্রে জমা পড়ে পাঁচটি নতুন বইয়ের খবর। গতকাল মেলায় এসেছে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের নিবন্ধ ‘ঢাকার কথা’ এনেছে অনুপম, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস ‘নয়মাস’ এনেছে অনন্যা, এ কে এম শাহনাওয়াজের প্রবন্ধ ‘ভাষা আন্দোলন : পরিপ্রেক্ষিত ও ইতিহাস’ এনেছে অবসর, আন্দালিব রাশদীর অনুবাদ ‘ভাইস চ্যান্সেলর ও অন্যান্য গল্প’ এনেছে বেঙ্গল পাবলিকেশন্স।

এ ছাড়া সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান’ এনেছে চন্দ্রাবতী একাডেমি, আয়েশা ফয়েজের স্মৃতিকথা ‘শেষ চিঠি’ এনেছে তাম্রলিপি, সাদ উর রহমানের ‘ঢাকাই খাবার ও খাদ্য সংস্কৃতি’ এনেছে ঐতিহ্য।


মন্তব্য