kalerkantho


বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সমঝোতা

ফের সংঘর্ষে নিহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালীর গণ্ডামারা থেকে ফিরে   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে ভূমিমালিক, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ও প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নৌবাহিনীর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা হয়েছে। গতকাল বুধবার প্রকল্প এলাকায় এক জনসভায় এই সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দূর হলো।

এদিকে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা উপলক্ষে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় গতকাল দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোহাম্মদ আলী (৩৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে প্রায় ২০ জন। এর আগে গত বছরের ৪ এপ্রিল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে চারজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল।

গণ্ডামারায় প্রকল্প কার্যালয়ে গতকাল দুপুরে এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান, নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ও প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রধান সমন্বয়কারী কমোডর এম সোহাইল, গণ্ডামারার বর্তমান চেয়ারম্যান আরিফ উল্লাহ ও সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীর মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে তাঁরা একসঙ্গে প্রকল্প কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত জনসভায় সমঝোতার বিষয়টি ঘোষণা করেন।

জনসভায় এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু বলেন, ‘এখানে ২০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পটি হলে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। কেবল উন্নত প্রযুক্তির কয়লা প্রকল্পই এখানে হবে না; সেই সঙ্গে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হবে। এসব কিছুর অংশীদার হবে বাঁশখালীর মানুষ। ’

কমোডর এম সোহাইল বলেন, ‘গণ্ডামারার উন্নয়ন তথা বাঁশখালীর উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্প সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে। বাইরে অনেকে অনেক কথা বলে। সেসব উড়ো কথায় আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। ’

গণ্ডামারা ভূমি রক্ষা কমিটির নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বলেন, এর আগে দেওয়া ১২ দফার দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি করছি। সেই সঙ্গে জমির ক্ষতিপূরণ ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংঘর্ষ : তিন পক্ষের সমঝোতা বৈঠক ও জনসভাকে কেন্দ্র করে গতকাল প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরই মধ্যে সমঝোতা বৈঠক চলাকালে প্রকল্প কার্যালয়ের বাইরে জনসভায় বিবদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও ২০-২১ জন আহত হয়। স্থানীয় যুবলীগ নেতা নুরুল মোস্তফা সংগ্রামের সমর্থকদের সঙ্গে লিয়াকত আলীর সমর্থকদের এই সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ২০ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলী ও মোস্তাফিজকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টার দিকে মারা যান মোহাম্মদ আলী।

আহত অন্যদের মধ্যে আবু সৈয়দ, জামাল হোসেন, মো. ইউনুস, কবির আহম্মদ, আবদুর রশিদ, আবদুল করিম, নূর উদ্দিন ও মো, সেলিমকে উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা সবাই যুবলীগ নেতা সংগ্রামের সমর্থক।

নূরুল মোস্তফা সংগ্রাম বলেন, ‘লিয়াকত আলী প্রকল্পের বিরোধিতা করায় এর আগেও এখানে সংঘর্ষ হয়েছে। চারজন লোক মারা গেছে। তাঁর এই সমঝোতায় আসার কোনো অধিকার নেই। লিয়াকত আলী বলেন, ‘নূরুল মোস্তফা সংগ্রাম সমঝোতা চান না বলেই এখানে গণ্ডগোল করতে এসেছিলেন। তাঁর লোকজনই প্রথম হামলা চালায়। ’

এদিকে গতকাল রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পর এলাকায় খবর পৌঁছলে বিক্ষুব্ধ হয় লোকজন। তারা গণ্ডামারা এলাকায় রাতে ব্যাপক বিক্ষোভ করে। এলাকার নিরাপত্তায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলোতে অবস্থান করলেও তারা কোনো অ্যাকশনে যায়নি।


মন্তব্য